🕌 Sheikh Zayed Grand Mosque – Abu Dhabi 🇦🇪
আবুধাবির অন্যতম দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা Sheikh Zayed Grand Mosque। সাদা মার্বেলের অপূর্ব সৌন্দর্য, বিশাল গম্বুজ, অসাধারণ ঝাড়বাতি, সুন্দর courtyard এবং পানির reflection—সব মিলিয়ে জায়গাটি সত্যিই চোখ ধাঁধানো। ✨
📍 Location: Abu Dhabi, UAE
🎟️ Entry: Free
🕘 Visiting Time: সাধারণত সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত
👗 Dress Code: শালীন ও শরীর ঢাকা পোশাক পরতে হবে
📸 Best Time for Photography: বিকেল থেকে sunset-এর সময় 🌅
✨ যা যা দেখতে পাবেন:
• Magnificent White Marble Architecture
• Grand Domes & Minarets
• Beautiful Reflection Pools
• Stunning Chandeliers
• Islamic Calligraphy & Artwork
• Peaceful Mosque Courtyard
🚗 Dubai থেকে: গাড়িতে আনুমানিক ১.৫ ঘণ্টা, ট্রাফিকের ওপর নির্ভর করে।
একবার গেলে এর সৌন্দর্য ও স্থাপত্যের বিশালতা সত্যিই মনে রাখার মতো। ❤️🇦🇪
#SheikhZayedGrandMosque #AbuDhabi #UAE #Dubai #VisitAbuDhabi #UAETravel #TravelUAE #AbuDhabiTour #Mosque #TravelPhotography
বসন্ত এলেই নেদারল্যান্ডসের এক ছোট্ট শহর লিসে হয়ে ওঠে রঙের এক অবিশ্বাস্য মেলা। জায়গাটার নাম কিউকেনহফ, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর সবচেয়ে বিখ্যাত ফুলের বাগান। আজ চলুন জেনে নিই এই বাগান নিয়ে কিছু চমকপ্রদ তথ্য।
কিউকেনহফ নামটার অর্থ আসলে রান্নাঘরের বাগান। পনেরো শতকে এই জায়গাটা ছিল এক শিকারভূমি আর দুর্গের অংশ, যেখান থেকে রান্নার জন্য শাকসবজি আর ভেষজ সংগ্রহ করা হতো, সেই থেকেই এই নাম। আঠারোশো সাতান্ন সালে বিখ্যাত স্থপতি বাবা ছেলে জোখার পরিবার, যারা আমস্টারডামের ভন্ডেলপার্কও ডিজাইন করেছিলেন, তারাই এই জায়গাটাকে ইংরেজি ল্যান্ডস্কেপ ধাঁচে নতুন করে সাজান। সেই নকশাই আজকের কিউকেনহফের মূল ভিত্তি।
আধুনিক কিউকেনহফের যাত্রা শুরু হয় উনিশশো ঊনপঞ্চাশ সালে, যখন বিশজন ডাচ ফুল চাষী মিলে সিদ্ধান্ত নেন এই জায়গাটাকে তাদের ফুলের প্রদর্শনী কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করবেন। পরের বছর সাধারণ মানুষের জন্য গেট খুলে দেওয়া হয়, আর প্রথম বছরেই প্রায় দুই লাখ মানুষ ঘুরতে আসেন। এখন প্রতি বছর প্রায় চৌদ্দ লাখেরও বেশি মানুষ ঘুরতে আসেন এই বাগানে।
সবচেয়ে অবাক করা তথ্য হলো, বাগানটা বছরে মাত্র আট সপ্তাহের জন্য খোলা থাকে, সাধারণত মার্চের শেষ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই লাখ লাখ মানুষ ছুটে আসেন শুধু ফুল দেখার জন্য। বাগানে প্রায় সত্তর লাখ ফুলের বাল্ব লাগানো হয়, আর প্রায় আটশোরও বেশি জাতের টিউলিপ ফোটে এখানে। প্রতি বছর শরৎকালে চল্লিশজন মালি মিলে প্রায় তিন মাস সময় নিয়ে হাতে হাতে এই বাল্বগুলো লাগান, একেবারে নতুন এক নকশা করে।
বাগানের আয়তন প্রায় বত্রিশ হেক্টর, শুধু টিউলিপ না, ড্যাফোডিল, হায়াসিন্থ, লিলি, অর্কিড আর গোলাপসহ প্রায় ষোলোশো জাতের ফুল দেখা যায় এখানে। এছাড়া আছে জাপানি বাগান, ইংলিশ ল্যান্ডস্কেপ গার্ডেন, ঐতিহাসিক বাগান, এমনকি একটা মেইজ পর্যন্ত। মজার ব্যাপার হলো, বাইরে থেকে যে বিশাল টিউলিপ ক্ষেতের ছবি সবাই দেখেন সোশ্যাল মিডিয়ায়, সেগুলা কিন্তু বাগানের ভেতরে না, বরং আশেপাশের ব্যক্তিগত মালিকানার ক্ষেত।
এমন রঙিন আর সুবাসিত একটা জায়গায় হাঁটার অভিজ্ঞতা সত্যিই ভাষায় বলে বোঝানো কঠিন। ফুলপ্রেমী মানুষদের জন্য এটা একরকম স্বর্গের মতোই একটা জায়গা।
আপনাদের মধ্যে কারো কি কখনো এই বসন্তের মৌসুমে ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনা আছে?
#কিউকেনহফ #নেদারল্যান্ডস #টিউলিপবাগান #ইউরোপভ্রমণ #অজানাতথ্য #ইউরোপ
আফ্রিকার সবচেয়ে বিখ্যাত প্রাকৃতিক বিস্ময়গুলার একটা নিয়ে আজ কথা বলব। জিম্বাবুয়ে আর জাম্বিয়ার সীমান্তে জাম্বেজি নদীর ওপর অবস্থিত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত, যেটাকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জলের পর্দা।
জলপ্রপাতটার প্রস্থ প্রায় সতেরোশো আট মিটার আর উচ্চতা প্রায় একশো আট মিটার। উচ্চতা আর প্রস্থ দুটো মিলিয়ে হিসাব করলে এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় একটানা জলপ্রপাত। জানেন কি? নায়াগ্রা জলপ্রপাতের প্রায় দ্বিগুণ উঁচু এই জিম্বাবুয়ের ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত! বর্ষা মৌসুমে প্রতি মিনিটে প্রায় পাঁচশো মিলিয়ন লিটার পানি এই খাদে গিয়ে পড়ে, যেটা ভাবতেই কেমন গা শিউরে ওঠে।
স্থানীয় ভাষায় এই জলপ্রপাতকে বলা হয় মোসি ওয়া টুনিয়া, মানে গর্জনকারী ধোঁয়া। এই নামটাই আসলে সবচেয়ে বেশি মানানসই, কারণ পানির তীব্র আঘাতে তৈরি হওয়া কুয়াশা আকাশে চারশো মিটার পর্যন্ত উঠে যায়, যা পঞ্চাশ কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যায়। আর পানির গর্জন শোনা যায় প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দূর থেকে।
জলপ্রপাতের ইতিহাসেও একটা মজার অংশ আছে। স্থানীয় মানুষরা হাজার বছর ধরে এই জায়গার সাথে পরিচিত থাকলেও ইউরোপীয়দের মধ্যে প্রথম এটা দেখেন স্কটিশ মিশনারি ডেভিড লিভিংস্টোন, আঠারোশো পঞ্চান্ন সালে। তিনিই তখনকার রানী ভিক্টোরিয়ার নামে এই জলপ্রপাতের নাম রাখেন, আর সেই নামটাই আজও প্রচলিত।
এই জলপ্রপাতের মোট পাঁচটা আলাদা অংশ আছে। জিম্বাবুয়ে অংশে পড়ে ডেভিলস ক্যাটারাক্ট, রেইনবো ফলস, মেইন ফলস আর হর্সশু ফলস, আর জাম্বিয়া অংশে পড়ে ইস্টার্ন ক্যাটারাক্ট। প্রতিটা অংশেরই আলাদা আলাদা সৌন্দর্য, আর ঋতুভেদে এদের চেহারাও বদলে যায়। বর্ষায় পুরোটা মিলে একটা বিশাল জলের পর্দার মতো দেখায়, আবার শুকনা মৌসুমে অনেক পাথুরে অংশ বেরিয়ে আসে যা অন্যরকম একটা রূপ দেয় জায়গাটাকে।
জলপ্রপাতের ঠিক নিচেই আছে বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া ফলস ব্রিজ, যেটা তৈরি হয়েছিল উনিশশো চার থেকে পাঁচ সালের মধ্যে, জিম্বাবুয়ে আর জাম্বিয়াকে সংযুক্ত করেছে এই সেতু। এখন এই সেতু থেকে বাঞ্জি জাম্পিং করার সুযোগও আছে, যারা রোমাঞ্চপ্রিয় তাদের জন্য এটা একটা বাড়তি আকর্ষণ।
উনিশশো নিরাশি সালে ইউনেস্কো এই জায়গাকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, আর এটাও পৃথিবীর সাত আশ্চর্যের তালিকায় থাকা একমাত্র জলপ্রপাত। আশেপাশের জাতীয় উদ্যানে হাতি, সিংহ, বেবুনসহ নানা বন্যপ্রাণীও দেখা যায়, তাই শুধু জলপ্রপাত না, পুরো এলাকাটাই একটা সম্পূর্ণ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দেয় দর্শনার্থীদের।
প্রকৃতির এমন প্রচণ্ড শক্তি চোখের সামনে দেখলে মানুষকে কতটা ছোট মনে হয়, তাই না?
#ভিক্টোরিয়াজলপ্রপাত #VictoriaFalls #জলপ্রপাত #জিম্বাবুয়ে #আফ্রিকাভ্রমণ #বিশ্বভ্রমণ #প্রকৃতিরবিস্ময় #অজানাতথ্য
বর্ষায় ঘুরতে বের হওয়ার মজাই আলাদা। চারদিকে সবুজ, ঝর্ণাগুলা, আকাশটাও কেমন মন খারাপ করা সুন্দর। কিন্তু বৃষ্টির মধ্যে ট্যুরে গিয়ে আমি নিজেও বহুবার ঝামেলায় পড়ছি, তাই এবার ভাবলাম কিছু জিনিস শেয়ার করি যেগুলা মাথায় রাখলে ট্রিপটা সহজ হয়ে যায়।
প্রথমেই বলি, যাওয়ার আগে আবহাওয়ার খবরটা একটু ভালো করে দেখে নিয়েন। শুধু একদিন না, পুরা ট্রিপের কয়দিন কেমন থাকবে সেটা জানা থাকলে প্ল্যানটা সহজে সাজানো যায়।
কাপড় নেওয়ার সময় সুতির জামা এড়ায় চলার চেষ্টা করি আমি। একবার ভিজলে শুকাতে শুকাতে সারাদিন যায়, আর ভেজা কাপড় নিয়ে ঘোরাটাও অস্বস্তিকর। কুইক ড্রাই কাপড় হলে সবচেয়ে ভালো হয়।
ছাতার চেয়ে রেইনকোট নিয়ে যাওয়াটা আমার কাছে বেশি কাজের মনে হয়। পাহাড়ে বা ট্রেকিং এর সময় হাত খালি রাখা লাগে তো, ছাতা ধরে রাখলে সেটা আর হয় না।
ব্যাগের ভিতরে জিনিসপত্র ভিজে যাওয়াটা সবচেয়ে বিরক্তিকর একটা ব্যাপার। তাই মোবাইল, পাওয়ার ব্যাংক, চার্জার এসব আলাদা করে পলিথিনে মুড়ে রাখি, আর পুরা ব্যাগের উপরে একটা রেইন কাভার দিয়ে দিই।
জুতার ব্যাপারে একটু বেশিই সচেতন থাকা দরকার। ভালো গ্রিপওয়ালা জুতা না হলে পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে যাওয়ার চান্স অনেক বেশি থাকে, আর এটা নিয়ে একবার কষ্ট পেলে বুঝবেন কতটা দরকারি জিনিস এটা।
পাহাড়ি জায়গায় বা নদীর পাড়ে গেলে ভূমিধস বা হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ার খবরটা একটু খেয়াল রাখি। স্থানীয় মানুষদের কাছে জিজ্ঞেস করলেই রাস্তাঘাটের আসল অবস্থা বোঝা যায়, ওদের কথাটা সবসময় শোনা উচিত।
গাড়ি বা বাইকে গেলে হাতে একটু বাড়তি সময় রাখি সবসময়। বৃষ্টিতে রাস্তা পিছলা থাকে, দেখাও কম যায়, তাই তাড়াহুড়া করে চালানোটা একদমই ঠিক না।
একটা ছোট মেডিসিন কিট সাথে রাখি সবসময়, জ্বর সর্দির ওষুধ, ব্যান্ডেজ, আর জোঁক তাড়ানোর নুন থাকে ব্যাগে। জোঁক সমস্যা অনেক জায়গায়ই হয়, বিশেষ করে বন জঙ্গলের ট্রেইলে।
প্ল্যানটা একটু ফ্লেক্সিবল রাখার চেষ্টা করি আমি। বৃষ্টির কারণে রাস্তা বন্ধ হতে পারে, নৌকা বন্ধ থাকতে পারে, তাই একটা ব্যাকআপ প্ল্যান হাতে রাখলে হুট করে মন খারাপ হয় না।
আর সবশেষে বলব, বৃষ্টিকে ভয় না পেয়ে উপভোগ করতে শিখি। ঠিকঠাক প্রস্তুতি নিয়ে বের হলে বৃষ্টির মধ্যেই সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলা তৈরি হয়।
আপনাদের বর্ষায় ঘোরার কোনো মজার বা বিপদের অভিজ্ঞতা থাকলে কমেন্টে বলেন তো।
#বর্ষায়ভ্রমণ #ভ্রমণটিপস #বৃষ্টিতেভ্রমণ
পৃথিবীতে এমন একটা স্থাপনা আছে যেটা তৈরি হতে লেগেছে প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি সময়, আর এর মোট দৈর্ঘ্য পৃথিবীর অর্ধেক পরিধির সমান! নাম তার চীনের মহাপ্রাচীর, বা গ্রেট ওয়াল অব চায়না।
এই প্রাচীরের সব অংশ একসাথে মিলিয়ে মোট দৈর্ঘ্য প্রায় একুশ হাজার একশো ছিয়ানব্বই কিলোমিটার। ভাবা যায়, এটা পৃথিবীর নিরক্ষরেখার অর্ধেক পরিধির চেয়েও বেশি। তবে এই পুরোটাই একটা একক স্থাপনা না, বরং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজবংশের হাতে তৈরি হওয়া অসংখ্য দেয়াল মিলিয়ে এই বিশাল কাঠামো গড়ে উঠেছে।
প্রাচীরের ইতিহাস শুরু হয় আজ থেকে প্রায় তিন হাজার বছর আগে, খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীর দিকে, যখন চীনের বিভিন্ন রাজ্য নিজেদের সীমানা রক্ষার জন্য আলাদা আলাদা দেয়াল বানাতে শুরু করে। পরে খ্রিস্টপূর্ব তিন শতাব্দীতে চিন শি হুয়াং, চীনের প্রথম সম্রাট, এই বিচ্ছিন্ন দেয়ালগুলোকে একসাথে জুড়ে একটামাত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রূপ দেন। এরপর প্রায় নয়টা রাজবংশ শত শত বছর ধরে এই প্রাচীর মেরামত আর সম্প্রসারণের কাজ চালিয়ে গেছে।
আজকে আমরা যে প্রাচীরটা সবচেয়ে বেশি দেখি এবং যেটার কথা মাথায় আসে, সেটা মূলত মিং রাজবংশের তৈরি, যাদের শাসনকাল ছিল চৌদ্দশো আটষট্টি থেকে ষোলশো চুয়াল্লিশ সাল পর্যন্ত। এই অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় আট হাজার আটশো পঞ্চাশ কিলোমিটার, আর এটাই সবচেয়ে ভালো সংরক্ষিত অংশ। বেইজিং এর আশেপাশের বাদালিং আর মুতিয়ানইউ অংশগুলো এই মিং আমলেরই তৈরি, আর সেগুলোই এখন সবচেয়ে বেশি পর্যটক টানে।
প্রাচীর বানানোর কাজে যে শ্রমিকরা নিয়োজিত ছিলেন তাদের মধ্যে সাধারণ মানুষ, সৈনিক, বন্দি আর যুদ্ধবন্দিরাও ছিলেন। কাজটা এতটাই কঠিন আর বিপজ্জনক ছিল যে বহু মানুষ কাজ করতে করতেই মারা যান। মজার একটা তথ্য হলো, মিং আমলে দেয়ালের ইট জোড়া দিতে আঠালো ভাত বা আঠালো চালের গুঁড়া ব্যবহার করা হতো চুনের সাথে মিশিয়ে। এই মিশ্রণটা এতটাই মজবুত ছিল যে এখনো অনেক জায়গায় এই জোড়া অক্ষত আছে, এমনকি সেখানে আগাছাও জন্মায় না।
একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে মহাপ্রাচীর নাকি চাঁদ থেকে খালি চোখে দেখা যায়, কিন্তু এটা আসলে একটা মিথ, বাস্তবে এমনটা সম্ভব না। তবে পৃথিবীর নিচু কক্ষপথ থেকে বিশেষ পরিস্থিতিতে এটা দেখা সম্ভব হয় বলে জানা যায়।
সবচেয়ে দুঃখজনক তথ্য হলো, সময়ের সাথে সাথে প্রাচীরের প্রায় এক তৃতীয়াংশ অংশ হারিয়ে গেছে, কিছুটা প্রাকৃতিক ক্ষয়ের কারণে, আবার কিছুটা মানুষের অসাবধানতার কারণেও। ১৯৫৭ সালে বাদালিং অংশ প্রথম সংস্কার করে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়, আর ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
এই প্রাচীর শুধু একটা প্রতিরক্ষা কাঠামো না, এটা যেন চীনের হাজার বছরের ইতিহাস, সংগ্রাম আর দৃঢ়তার এক জীবন্ত সাক্ষী। পাহাড়ের চূড়া বেয়ে বেয়ে দূর দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া এই দেয়াল দেখলে সত্যিই বোঝা যায় মানুষ ইচ্ছা করলে কতটা বিশাল কিছু গড়ে তুলতে পারে।
আপনাদের মধ্যে কেউ কি সরাসরি গিয়ে এই মহাপ্রাচীরের কোনো অংশ দেখে এসেছেন? দেখলে কেমন লেগেছিল একটু শেয়ার করুন।
#চীনেরমহাপ্রাচীর #গ্রেটওয়ালঅবচায়না #বিশ্বভ্রমণ #ইতিহাসেরগল্প #অজানাতথ্য #প্রাচীনসভ্যতা
মিশরের পিরামিড নিয়ে আমরা কমবেশি সবাই জানি, কিন্তু এমন অনেক তথ্য আছে যা সত্যিই অবাক করে দেওয়ার মতো। আজ চলুন জেনে নিই গিজার পিরামিড নিয়ে এমন কিছু অজানা তথ্য।
১. গ্রেট পিরামিড তৈরি হয়েছিল প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে, খ্রিস্টপূর্ব ২৫৬০ সালের দিকে, ফারাও খুফুর সমাধি হিসেবে। এটাই প্রাচীন বিশ্বের সাত আশ্চর্যের মধ্যে একমাত্র যেটা এখনো প্রায় অক্ষত অবস্থায় টিকে আছে।
২. পিরামিড বানাতে ব্যবহার হয়েছিল প্রায় তেইশ লাখ পাথরের ব্লক, যার মোট ওজন প্রায় ষাট লাখ টন। প্রতিটা ব্লকের গড় ওজন ছিল প্রায় চার টন, তবে কিছু কিছু ব্লক আশি টন পর্যন্ত ভারী ছিল।
৩. অনেকেই মনে করেন পিরামিড বানিয়েছিল দাসেরা, কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে এটা ভুল ধারণা। পিরামিডের পাশে শ্রমিকদের জন্য আলাদা গ্রাম তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে তারা বেতন পেতেন আর সুন্দর থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও ছিল।
৪. তৈরি হওয়ার সময় পিরামিডের গায়ে ছিল মসৃণ সাদা চুনাপাথরের আস্তরণ, যা রোদে চকচক করত আর বহু দূর থেকে দেখা যেত। সময়ের সাথে সাথে বেশিরভাগ আস্তরণ খুলে পড়ে গেছে, আজকে যা আমরা দেখি সেটা মূলত ভেতরের মূল কাঠামো।
৫. প্রায় সাড়ে তিন হাজার আটশো বছর ধরে গ্রেট পিরামিড ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মানবনির্মিত স্থাপনা। চতুর্দশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের লিংকন ক্যাথেড্রাল তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত এই রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারেনি।
৬. পিরামিডের ভেতরের তাপমাত্রা সবসময় প্রায় বিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে, বাইরে মরুভূমির তীব্র গরম সত্ত্বেও। প্রাচীন মিশরীয়দের এই নকশা রীতিমতো প্রাকৃতিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো কাজ করত।
৭. গ্রেট পিরামিডের ভেতরে একটা গ্রানাইট পাথরের সিন্দুক পাওয়া গেছে, যেটা এত বড় যে সরু প্যাসেজ দিয়ে ভেতরে ঢোকানো সম্ভব না। তার মানে পিরামিড তৈরির সময়ই এই সিন্দুকটা ভেতরে বসানো হয়েছিল।
৮. তিনটা প্রধান পিরামিডের অবস্থান আকাশের ওরিয়ন তারামণ্ডলের সাথে মিলে যায়, এমনটাই ধারণা করেন গবেষকরা। প্রাচীন মিশরীয়রা ওরিয়নকে জড়িয়ে রাখা দেবতা ওসাইরিসের সাথে সংযুক্ত করতেন, যিনি পুনর্জন্মের প্রতীক ছিলেন।
৯. পিরামিডের ভেতরে কোনো মমি বা ধনসম্পদ পাওয়া যায়নি, যা অনেকের কাছেই অবাক করা তথ্য। প্রাচীনকালেই ডাকাতরা ভেতরের সব লুট করে নিয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
১০. গিজা মালভূমিতে মোট প্রায় দশটার মতো পিরামিড আছে, কিন্তু পুরো মিশর জুড়ে পিরামিডের সংখ্যা একশো কুড়িরও বেশি। শুধু গিজার তিনটা বড় পিরামিডই এত বিখ্যাত হয়ে আছে তাদের বিশাল আকৃতির কারণে।
এত হাজার বছর আগে, আধুনিক কোনো যন্ত্রপাতি ছাড়াই মানুষ কীভাবে এমন নিখুঁত স্থাপনা তৈরি করল, এটা ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়। ইতিহাস আর রহস্যের এমন মিশেল খুব কম জায়গাতেই পাওয়া যায়।
#পিরামিড #মিশর #ইতিহাসেরগল্প #অজানাতথ্য #বিশ্বভ্রমণ #কুহুডাক #প্রাচীনসভ্যতা

