পিরামিড নিয়ে অজানা দশটি চমকপ্রদ তথ্য
মিশরের পিরামিড নিয়ে আমরা কমবেশি সবাই জানি, কিন্তু এমন অনেক তথ্য আছে যা সত্যিই অবাক করে দেওয়ার মতো। আজ চলুন জেনে নিই গিজার পিরামিড নিয়ে এমন কিছু অজানা তথ্য।
১. গ্রেট পিরামিড তৈরি হয়েছিল প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে, খ্রিস্টপূর্ব ২৫৬০ সালের দিকে, ফারাও খুফুর সমাধি হিসেবে। এটাই প্রাচীন বিশ্বের সাত আশ্চর্যের মধ্যে একমাত্র যেটা এখনো প্রায় অক্ষত অবস্থায় টিকে আছে।
২. পিরামিড বানাতে ব্যবহার হয়েছিল প্রায় তেইশ লাখ পাথরের ব্লক, যার মোট ওজন প্রায় ষাট লাখ টন। প্রতিটা ব্লকের গড় ওজন ছিল প্রায় চার টন, তবে কিছু কিছু ব্লক আশি টন পর্যন্ত ভারী ছিল।
৩. অনেকেই মনে করেন পিরামিড বানিয়েছিল দাসেরা, কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে এটা ভুল ধারণা। পিরামিডের পাশে শ্রমিকদের জন্য আলাদা গ্রাম তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে তারা বেতন পেতেন আর সুন্দর থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও ছিল।
৪. তৈরি হওয়ার সময় পিরামিডের গায়ে ছিল মসৃণ সাদা চুনাপাথরের আস্তরণ, যা রোদে চকচক করত আর বহু দূর থেকে দেখা যেত। সময়ের সাথে সাথে বেশিরভাগ আস্তরণ খুলে পড়ে গেছে, আজকে যা আমরা দেখি সেটা মূলত ভেতরের মূল কাঠামো।
৫. প্রায় সাড়ে তিন হাজার আটশো বছর ধরে গ্রেট পিরামিড ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মানবনির্মিত স্থাপনা। চতুর্দশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের লিংকন ক্যাথেড্রাল তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত এই রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারেনি।
৬. পিরামিডের ভেতরের তাপমাত্রা সবসময় প্রায় বিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে, বাইরে মরুভূমির তীব্র গরম সত্ত্বেও। প্রাচীন মিশরীয়দের এই নকশা রীতিমতো প্রাকৃতিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো কাজ করত।
৭. গ্রেট পিরামিডের ভেতরে একটা গ্রানাইট পাথরের সিন্দুক পাওয়া গেছে, যেটা এত বড় যে সরু প্যাসেজ দিয়ে ভেতরে ঢোকানো সম্ভব না। তার মানে পিরামিড তৈরির সময়ই এই সিন্দুকটা ভেতরে বসানো হয়েছিল।
৮. তিনটা প্রধান পিরামিডের অবস্থান আকাশের ওরিয়ন তারামণ্ডলের সাথে মিলে যায়, এমনটাই ধারণা করেন গবেষকরা। প্রাচীন মিশরীয়রা ওরিয়নকে জড়িয়ে রাখা দেবতা ওসাইরিসের সাথে সংযুক্ত করতেন, যিনি পুনর্জন্মের প্রতীক ছিলেন।
৯. পিরামিডের ভেতরে কোনো মমি বা ধনসম্পদ পাওয়া যায়নি, যা অনেকের কাছেই অবাক করা তথ্য। প্রাচীনকালেই ডাকাতরা ভেতরের সব লুট করে নিয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
১০. গিজা মালভূমিতে মোট প্রায় দশটার মতো পিরামিড আছে, কিন্তু পুরো মিশর জুড়ে পিরামিডের সংখ্যা একশো কুড়িরও বেশি। শুধু গিজার তিনটা বড় পিরামিডই এত বিখ্যাত হয়ে আছে তাদের বিশাল আকৃতির কারণে।
এত হাজার বছর আগে, আধুনিক কোনো যন্ত্রপাতি ছাড়াই মানুষ কীভাবে এমন নিখুঁত স্থাপনা তৈরি করল, এটা ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়। ইতিহাস আর রহস্যের এমন মিশেল খুব কম জায়গাতেই পাওয়া যায়।
#পিরামিড #মিশর #ইতিহাসেরগল্প #অজানাতথ্য #বিশ্বভ্রমণ #কুহুডাক #প্রাচীনসভ্যতা
