গোলাপ গ্রাম (Golap Gram), ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামে অবস্থিত। গোলাপ গ্রামে প্রায় ৪০ জাতের গোলাপ চাষ করা হয়। এই ফুলের গ্রাম কে লেক আইল্যান্ড (Lake Island) বলা হয়ে থাকে।
বিংশ শতকের দিকে সাভারের সাদুল্লাহপুর গ্রামটি ভাওয়াল রাজার অধীনস্থ ছিল। একসময় এই গ্রামে মানুষ শখের বসে গোলাপ চাষ করলেও বাণিজ্যিকভাবে এখানে প্রথম গোলাপ চাষ শুরু হয় ১৯৯০ সালের দিকে। একজন দুইজন করে বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ চাষ করে লাভবান হওয়ার ফলে বর্তমানে সাদুল্লাহপুর গ্রাম সহ শ্যামপুর, মোস্তাপাড়া গ্রামজুড়ে গোলাপ চাষ করা হয়। এই তিনটি গ্রামের আপনি যেদিকে তাকাবেন সে দিকেই দেখতে পাবেন শুধু গোলাপ আর গোলাপ। যেন গোলাপের রাজ্য।
| অবস্থান | সাদুল্লাপুর, বিরুলিয়া, সাভার, ঢাকা |
| গোলাপ চাষ শুরু হয় | ১৯৯০ সাল |
| ড্রোন উড়ানো যাবে | হ্যাঁ |
| মোটরসাইকেল নেয়া যাবে | হ্যাঁ |
| টিকিট মূল্য | নাই |
| খোলা থাকার সময় | ২৪/৭ দিন |
| ঢাকা থেকে দূরত্ব | ২৪ কিঃমিঃ (প্রায়) |
কি কি দেখবেন
এখানে প্রকৃতির যে সবুজ সমারোহ পাবেন তা আপনাকে ভুলিয়ে দিবে যে আপনি পৃথিবীতে আছেন। আপনার মনে হবে আপনি কোন একটা স্বপ্নের রাজ্যে চলে এসেছেন। আপনার নিজেকে চিমটি কেটে দেখতে ইচ্ছা করবে। মিরপুর বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে তুরাগ নদীর তীরে এই গোলাপ গ্রামটি অবস্থিত। এটা একটা লেক আইল্যান্ড। আপনি হাটতে হাটতে যখন এটার শেষের দিকে চলে আসবেন তখন নিচের দিকে দেখে অবাক হবেন যে আপনি কত উচ্চতায় রয়েছে! এখানে প্রায় ৪০ প্রজাতির ফুলের চাষ করা হয়।
লাল গোলাপ থেকে শুরু করে নীল, হলুদ, গোলাপী, বেগুনীসহ বিভিন্ন রং আর আকৃতির গোলাপ পাবেন এখানে। এছাড়া আরও রয়েছে শিউলি, জবা, গন্ধরাজ, হাস্নাহেনা, কামিনি, রঙ্গন, কসমস, ডালিয়া, স্নো-বল, বেলী, বাগান বিলাস, টগর, কাঁঠালচাপা, এলামেন্ডা, ফেলেন ডুলা, জিনিয়া, বকুল ও গাঁদা ফুল। গোলাপের বাগান ছাড়াও বিরুলিয়াতে অত্যাধুনিক গ্রিনহাউস পদ্ধতিতে চাষ করা জারভারা ও গ্লাডিওলাসের বাগান রয়েছে।
আরও: তামান্না ওয়ার্ল্ড ফ্যামিলি পার্ক
কখন যাবেন
আপনি বছরের যে সময়ই যান সাদুল্লাহপুর গেলে গোলাপ ফুল দেখতে পাবেন। তবে শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) হচ্ছে গোলাপ ফুল ফোটার উপযুক্ত বা সেরা সময়। এ সময় ফুলগুলো বেশ সতেজ ও বড় আকারের হয়ে থাকে। পুরো বাগান তখন ফুলে ফুলে ভরে যায়। তবে মনে রাখবেন যে, শুক্রবার ও ছুটির দিনগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় থাকতে পারে, তাই নিরিবিলিতে ঘুরতে চাইলে সপ্তাহের অন্য দিনে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
কিভাবে যাবেন
সড়ক পথে: ঢাকা থেকে গোলাপ গ্রাম এর দূরত্ব প্রায় ২৪ কিলোমিটার। সড়কপথে গোলাপ গ্রাম যেতে চাইলে ঢাকার যেকোন জায়গা থেকে প্রথমে মিরপুর ১ নাম্বার বাসষ্ট্যান্ড চলে আসবেন। মাজার রোড থেকে লেগুনা করে আকরান বাজার। আকরান বাজার থেকে ১৫ টাকা অটো ভাড়া দিয়ে সোজা চলে আসবেন গোলাপ গ্রাম।
আবার আপনি, উত্তরা হাউজ বিল্ডিং বা নর্থ টাওয়ার থেকে লেগুনা বা রিকশায় দিয়াবাড়ি (মেট্রোরেল স্টেশন এলাকা) দিয়েও যেতে পারেন। দিয়াবাড়ি থেকে বিরুলিয়া ব্রিজ যাওয়ার লোকাল গাড়ি বা অটো পাওয়া যায়। বিরুলিয়া ব্রিজ থেকে ৪০-৬০ টাকা অটো ভাড়ায় সরাসরি সাদুল্লাহপুর চলে আসতে পারবেন। এছাড়া বিরুলিয়া ব্রিজ থেকে এখন নিয়মিত সিএনজি ও ইজিরাইড পাওয়া যায়।
নৌপথে: ঢাকার যেকোন জায়গা থেকে প্রথমে মিরপুর ১ নাম্বার বাসষ্ট্যান্ড চলে আসবেন। তারপর রিকশায় দিয়াবাড়ি(মনে রাখবেন: এটা উত্তরার দিয়াবাড়ি নয়) বটতলা চলে আসবেন। ভাড়া নিবে ২০ থেকে ৪০ টাকার মত। চাইলে বাসেও যেতে পারেন। যে সব বাস গুলো যায়ঃ আলিফ, শ্রাবনী, হোমনা বাস দিয়াবাড়ির সামনে দিয়ে যায়। চলে আসলেন দিয়াবাড়ী। দিয়াবাড়ী ঘাট থেকে আধা ঘন্টা পর পর ট্রলার সাদুল্লাপুরের উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায়। ট্রালার সকাল ৮.৩০ থেকে চলাচল শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬ টার পর এখানে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বর্ষায় যেতে সময় লাগে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট। নদীতে পানি কম থাকলে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট লাগে। ট্রলার ভাড়া নিবে ২০-৫০ টাকা।
আরও: আলাদিন পার্ক
কোথায় খাবেন
নৌকায় ভ্রমণে গেলে সাদুল্লাপুর ঘাটের কাছেই খাবার হোটেল পাবেন। আর সড়কপথে গেলে আকরান বাজারে খাবার হোটেল থেকে খেয়ে নিতে পারেন।
টিপস ও সতর্কতা
- গোলাপ গ্রামে খুব সকালে অথবা বিকেলের দিকে ভ্রমণ করবেন। দুপুরে এখানে প্রচন্ড রোদ থাকে।
- গ্রীষ্মে এখানে ভ্রমণের সময় সাথে ছাতা অথবা রেইনকোট নিতে ভুলবেন না।
- গোলাপ গ্রাম সদর থেকে অনেক দূরে হওয়ায় সাথে করে অবশ্যই প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মেডিসিন নিয়ে নিবেন।
- জায়গাটি অত্যন্ত নির্জন এলাকায় তাই একা ভ্রমণ করা উচিৎ নয়।
- একজন ভ্রমণ কারীর সাথে ক্যামেরা থেকে শুরু করে মোবাইল, ল্যাপটপ, ড্রোন ইত্যাদি থাকে। তাই নিরিবিলি স্থানে ভ্রমণ করার সময় সদা সতর্ক থাকা উচিত। বলাতো যায়না কখন বিপদ ঘটে যায়।
- ভ্রমণে পান করার জন্য সাথে ফ্রেশ পানি নিয়ে নিবেন। সাথে শুকনো খাবার নিতে ভুলবেন না।
- ভ্রমণে সাইকেল নিয়ে গেলে কোথাও নিরাপদ স্থানে রেখে যাবেন অথবা সাথে রাখবেন। কারন এখানে সাইকেল রাখার নির্দিষ্ট কোন জায়গা নেই।
- বর্ষার সময় এখানে ভ্রমণ না করাই উত্তম।
- অতি উৎসাহী হয়ে গোলাপ বাগানের ভিতর দিয়ে হাঁটবেন না এতে গোলাপের কাটা গায়ে বিঁধে যেতে পারে।
- নির্দিষ্ট রাস্তা দিয়ে হাঁটুন কারণ গোলাপ বাগানে বা ঝোপঝাড়ে সাপ থাকতে পারে।
- অতি উৎসাহী হয়ে দ্বীপের একেবারে পাড়ে যাবে না। একবার নিচে গড়িয়ে পরলে উপরে উঠার আর চান্স নেই। তাই সাবধান।
- না বলে গোলাপ ছিঁড়বেন না।
- প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট করবেন না।
- স্থানীয়দের সাথে খারাপ আচরণ করবেন না।
- সন্ধ্যার পূর্বেই এখান থেকে চলে আসবেন।
- এখানে শীতকালে ভ্রমণ করাই উত্তম।
- যেকোন সমস্যায় গোলাপ চাষীদের সহযোগিতা নিন।
- ড্রোন উড়ানোর আগে অনুমতি নিয়ে নিবেন।
- অপরিচিত কারো দেওয়া কিছু খাবেন না।

O vai, ki bolbo!! Apnar lekha gulo pore abong ato sundhor babe bornona sune Atoi interested hoe gesi j, dui ak diner moddei okhane jete isse hosse.. Thank you so much, Arif vai..
(Uttara thaki, amr college Charabag, Ashulia, Birulia bridze thekeo college a jai)
Thank you so much vaiya.
Nice post! Thanks for share.
You are most welcome.