রাজমনি পিরামিড (Rajmoni Pyramid), বাংলাদেশের ঢাকা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত। এখানের ভেতরে মমিও আছে। আর আপনাকে মিসরের পিরামিড দেখতে হাজার হাজার ডলার খরচ করে বিদেশ যেতে হবে না। মুক্তিযোদ্ধা চলচ্চিত্র নির্মাতা আহসান উল্লাহ মনির উদ্যোগে পেরাব গ্রামে গড়ে তোলা রাজমনি ফিল্ম সিটিতে ২০১৬ সালে উদ্বোধন হয় এই পিরামিড কমপ্লেক্সটি। তবে যাই বলি না কেন, আসল মিসরের পিরামিডের সাথে তুলনা চলে না, সেটা সবাই জানে। কিন্তু ঢাকার কাছে পরিবার নিয়ে একটা ভিন্নধর্মী আধ দিনের আউটিং হিসেবে জায়গাটা বেশ মজার।
রাজমনি পিরামিড কোথায় অবস্থিত
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পেরাব গ্রামে রাজমনি পিরামিড অবস্থিত। জায়গাটি রাজমনি ফিল্ম সিটি নামে পরিচিত একটি বৃহৎ প্রকল্পের অংশ, যেখানে পিরামিডের পাশাপাশি বাংলার তাজমহল, ফিল্ম জাদুঘর ও ডিজিটাল সিনেমা হলও রয়েছে। এর দূরত্ব ঢাকা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার।
কী কী দেখবেন
আটটি পিরামিড: মিসরের পিরামিডের আদলে তৈরি মোট আটটি পিরামিড পাশাপাশি সাজানো। দূর থেকে দেখলে আসল মনে হবে এমন না, কিন্তু কাছে গেলে কারুকাজ বেশ চমৎকার। প্রতিটি পিরামিডের ভেতরে একটি করে মমির রেপ্লিকা রাখা আছে। ফেরাউনসহ মোট আটটি মমির ডামি ধারাবাহিকভাবে দেখার সুযোগ আছে।
ভেতরে ঢোকার অভিজ্ঞতা: শুধু বাইরে থেকে দেখা না, পিরামিডের ভেতরেও ঢোকা যায়। ভেতরের আলো-আঁধারির পরিবেশে মমি দেখতে বেশ অন্যরকম লাগে। বাচ্চাদের কাছে এটা বেশ রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
বাংলার তাজমহল: পিরামিডের পাশেই একই ক্যাম্পাসে বাংলার তাজমহল। আগ্রার তাজমহলের আদলে তৈরি, সামনে পানির ফোয়ারা, চার কোণে চারটি মিনার। প্রবেশ টিকেট কিনলে দুটোই একসাথে দেখা যাবে, আলাদা করে শুধু পিরামিড বা শুধু তাজমহল দেখার সুযোগ নেই।
রাজমনি ফিল্ম সিটি স্টুডিও ও রেস্তোরাঁ: ক্যাম্পাসের ভেতরেই একটি শুটিং স্টুডিও আছে, মাঝে মাঝে সিনেমার কাজ চলে। রাজমনি ফিল্ম সিটির নিজস্ব রেস্তোরাঁও আছে।
ফটোগ্রাফির জায়গা: পিরামিড আর তাজমহলের সামনে ছবি তোলার জন্য জায়গাটা বেশ ভালো। আলো ভালো থাকলে পিরামিডের ব্যাকগ্রাউন্ডে ছবি দারুণ আসে।
আরও: মায়াদ্বীপ
ভ্রমণের সেরা সময়
এখানে আপনি সারা বছরই ভ্রমণে যেতে পারেন। তবে, অক্টোবর থেকে মার্চ এই শীতের সময়টা সবচেয়ে আরামদায়ক। গ্রীষ্মে রোদের মধ্যে পিরামিড চত্বরে হাঁটা কষ্টের। সকালে গেলে ভিড় কম থাকে, ছবিও ভালো আসে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ভিড় বেশ বেশি হয়, বিশেষ করে শুক্রবার। পরিবার নিয়ে শান্তিমতো ঘুরতে চাইলে সপ্তাহের মাঝামাঝি কোনো দিনে যাওয়া ভালো।
প্রবেশ মূল্য ও সময়সূচি
তাজমহল ও পিরামিড দুটো মিলিয়ে একসাথে একটাই টিকেট জনপ্রতি ১৫০ টাকা। আলাদা আলাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই, দুটো একসাথেই দেখতে হবে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রবেশ ফি নেই। পিরামিড প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বছরের সব দিনই পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাসে: ঢাকার গুলিস্তান বা সায়েদাবাদ থেকে কুমিল্লা, দাউদকান্দি বা সোনারগাঁওয়ের দিকে যাওয়া যেকোনো বাসে উঠুন, নামতে হবে মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে। গুলিস্তান থেকে ভাড়া মাত্র ২০ টাকার মতো। মদনপুর থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় সরাসরি রাজমনি ফিল্ম সিটি (পেরাব গ্রাম) যাওয়া যায় জনপ্রতি ২৫-৩০ টাকা নিবে।
ঢাকা থেকে কুড়িল হয়ে: কুড়িলের ৩০০ ফিট রাস্তা দিয়ে ভুলতা হয়েও আসা যায়। সেখান থেকে অটোরিকশা বা সিএনজিতে পেরাব।
নিজের গাড়িতে: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মদনপুর পেরিয়ে পেরাব গ্রামের দিকে। এখানের রাস্তা ভালো, নিজের গাড়িতে আসলে গাড়ি পার্কিং করা যাবে পার্কিং চার্জ ২০ টাকা নিবে।
টিপ: পানাম নগর বা সোনারগাঁও জাদুঘরের সাথে একই দিনে পরিকল্পনা করুন। মদনপুর থেকে জাদুঘর কাছেই।
কোথায় খাবেন
রাজমনি ফিল্ম সিটির নিজস্ব রেস্তোরাঁ ক্যাম্পাসের ভেতরেই আছে। স্থানীয় মেনু পাওয়া যায়। এছাড়া মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকটি খাবারের হোটেল আছে ভাত, ডাল, মাছ, মুরগির সাধারণ খাবার পাওয়া যায়। সোনারগাঁও এলাকায় বিশেষ কোনো জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ নেই।
কোথায় থাকবেন
রাজমনি পিরামিড মূলত এক দিনের ভ্রমণের জন্য সেরা। ঢাকা থেকে সকালে বেরিয়ে বিকেলেই ফিরে আসতে পারবেন। রাতে থাকার প্রয়োজন সাধারণত হয় না। তবে পানাম নগর, সোনারগাঁও জাদুঘর আর পিরামিড একসাথে দেখতে চাইলে এবং রাতে থাকতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ শহরে বেশ কিছু হোটেল আছে। সোনারগাঁও এলাকায় রয়েছে সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্ট।
আশেপাশে আর কি কি দেখবেন
রাজমনি পিরামিডে ভ্রমণে গেলে আশেপাশের জায়গাগুলো একই দিনে ঘুরে নেওয়া একদম সম্ভব এবং সেটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
- পানাম নগর
- সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর
- বড় সরদারবাড়ি
- গোয়ালদি মসজিদ
- বাংলার তাজমহল
ফেসবুক: Kuhudak
