মাওয়া ফেরি ঘাট (Mawa Feri Ghat), বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার পদ্মা পাড়ে অবস্থিত। এখানে প্রতিদিন ঢাকা এবং আপশেপাশের পর্যটকরা নদী ভ্রমণ এবং ইলিশ খেতে আসেন। এখানকার মাছের বাজারে ইলিশ ছাড়াও সামুদ্রিক অনেক বাহারি প্রজাতির তাজা মাছ পাওয়া যায় এবং আপনি পছন্দ মত কিনে এখানের হোটেল বা রেস্টুরেন্টে নিয়ে টাটকা ভেজে খেতে পারবেন। মূলত এই কারনেই সি ঘাট বা স্থান বেশি জনপ্রিয়।
| ধরন | দর্শনীয় স্থান, ইলিশ মাছ খাওয়া |
| অবস্থান | মুন্সিগঞ্জ (বিক্রমপুর), ঢাকা, বাংলাদেশ |
| ঢাকা থেকে দূরত্ব | ৫৭ কিলোমিটার প্রায় (সড়কপথ) |
| ড্রোন উড়ানো যাবে | হ্যাঁ |
| বিখ্যাত | ইলিশ মাছ |
একদিনের জন্য মাওয়া ফেরি ঘাট সব চেয়ে বিখ্যাত। মাওয়া ফেরি ঘাট পদ্মা সেতুর শুরু বা পদ্মা পাড়ে অবস্থিত। ঢাকা থেকে প্রাইভেট কারে মাওয়া যেতে ৩০ মিনিট এর মত সময় লাগে। তাই সময় পেলেই খাওয়া এবং ঘুরার জন্য এই স্থানটি কে সবাই সহজে বেছে নেয়। এদিকে সড়ক পথ এর অবস্থা খুবই ভালো। একটানে আপনি চলে যেতে পারবেন মাওয়া। এখানে অনেকেই আসেন মোটরসাইকেল করে, আবার অনেকে নিজস্ব বা গাড়ি ভারা করে আসেন। এছাড়া ঢাকা থেকে আসার জন্য নির্দিষ্ট কিছু বাস রয়েছে।
যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো, অল্প সময়ে যাওয়া যায়, ঘুরার পাশাপাশি নদীতে স্পিড বোড নিয়ে ভ্রমণ সাথে আবার নদি থেকে ধরে আনা টাটকা ইলিশ মাছ খাওয়া এই সব কিছু এক সাথে পাওয়া সপ্নের ব্যাপার। আর সেটা যদি পাওয়া যায় তা হচ্ছে একমাত্র মাওয়া ফেরি ঘাট।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার গুলিস্তান বা যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া ঘাট বাস যায়। ভাড়া নিবে আনুমানিক ৭০-১০০ টাকা, বিআরটিসি/ইলিশ পরিবহনে। মিরপুর ১০, ফার্মগেট এবং শাহবাগ থেকে যায় স্বাধীন পরিবহন। এসি বাসে যেতে চাইলে গুলিস্তান থেকে বিআরটিসি দিয়ে যেতে পারেন।
পদ্মার ঐপাড় যেতে পারেন লঞ্চ, ফেরি অথবা স্পীডবোট দিয়ে। ভাড়া নিবে ৩৫ কিংবা ২০/১৫০/২০০ টাকা। সময় লাগতে পারে ২ ঘন্টা, ১:৩০ ঘন্টা অথবা ৩০ মিনিট এর মত।
কোথায় খাবেন
মাওয়া ঘাটে রয়েছে প্রচুর খাবারের হোটেল এবংরেস্টুরেন্ট। সব হোটেলেই ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। আপনি চাইলে নিজে দেখে শুনে ইলিশ কিনে নিয়ে ভেঁজে নিতে পারবেন অথবা হোটেল এবংরেস্টুরেন্ট থেকে তাদের ফ্রিজে রাখা ইলিশ বা অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ কিনে নিতে পারেন। এছাড়া মাওয়া ঘাটে না খেতে চাইলে চলে যেতে পারেন পদ্মার ওপারে কাওড়াকান্দি বা জাজিরা ঘাটের কাছের হোটেল গুলোয়। এখানেও আপনি টাটকা মাছ পাবেন।
এখানে ইলিশ মাছ ভাজার সাথে ইলিশ মাছের লেজ ভর্তা এবং বেগুল ভাজি বেশি জনপ্রিয়। এছারাও আপনি চাইলে পুরো ১টা ইলিশ মাছ না কিনে পিছ হিসেবেও কিনতে পারেন। প্রতি পিসের দাম ১০০ থেকে ১৫০ কিংবা ২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পাড়ে।
ইলিশ মাছ খাওয়ার প্রক্রিয়া
মাওয়াতে আসলে কিভাবে ইলিশ মাছ খাওয়া হয় তার সুন্দর একটি প্রক্রিয়া রয়েছে।
- প্রথমে আপনি আপনার ইচ্ছেমত যে কোন স্থান (বাজার বা কিছু কিছু দোকানেও পাওয়া যায়) অথবা হোটেল/ রেস্টুরেন্ট থেকে ইলিশ মাছ কিনে নিবেন।
- হোটেল/ রেস্টুরেন্ট নির্বাচন করবেন।
- রেস্টুরেন্ট এর কাছে আপনার কিনে আনা মাছ দিবেন। তারা তাদের লোক দিয়ে মাছ কেটে দিবে।
- রান্নার জন্য তারা আপনাকে পরিমান মত তেল কিনে দিবে বা আপনাকে কিনে দিতে বলবে। বেগুল নিবেন। সাথে আর যা যা প্রয়োজন।
- তারা আপনার ইলিশ মাছ ভেজে দিবে। ইলিশ মাছ এর লেজ ভর্তা করে দিবে।
- খাবার পরিবেশন করবে। সাথে ভাত, পানি, ডাল, কোমল পানিও ইত্যাদি দিবে।
আশেপাশের আরও দর্শনীয় স্থান
মাওয়া দর্শনীয় স্থানে দেখার মত রয়েছে:
- মাওয়া ফেরি ঘাট
- মাওয়া লঞ্চ ঘাট
- স্পিড বোড এর ঘুরা
- পদ্মা সেতু দেখা
- পদ্মার পাড় ঘুরা
টিপস ও সর্তকতা
- ইলিশ মাছ খেতে মাওয়া আসলে সাথে অবশ্যই কাউকে নিয়ে আসবেন। একা একা এখানে ভালো লাগবে না।
- ইলিশ মাছ কেনার সময় দরদাম করে নিবেন।
- কয়েকটা রেস্টুরেন্ট ঘুরে দামাদামি করে নিন অথবা ঘাট থেকে মাছ কিনতে পারেন।
- দুপুরে করা রোদে আসলে তেমন একটা মজা পাবেন না। এজন্য বিকেলের দিকে আসতে পারেন।
- ইলিশের লেজ ভর্তা খেতে ভুলবেন না।
- রাতে গেলে অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়টা খেয়াল রাখবেন।
আরও: বাংলার তাজমহল
মাওয়া নিয়ে ভ্রমণ জিজ্ঞাসা
ঢাকা থেকে মাওয়া কত কিলোমিটার?
৫৭ কিলোমিটার প্রায় (সড়কপথ)
মাওয়া ঘাট যেতে ভাড়া কত নিবে?
গুলিস্তান বা যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া ঘাট বাস যায়। ভাড়া নিবে আনুমানিক ৭০/- বি আরটিসি/ইলিশ পরিবহন। মিরপুর ১০, ফার্মগেট এবং শাহবাগ থেকে যায় স্বাধীন পরিবহন। এসি বাসে যেতে চাইলে গুলিস্তান থেকে বিআরটিসি দিয়ে যেতে পারেন।
গুলিস্তান থেকে মাওয়া কত কিলোমিটার?
৫৭ কিলোমিটার প্রায় (সড়কপথ)
ঢাকা থেকে পদ্মা সেতুর দূরত্ব কত?
৫৪ কিলোমিটার প্রায় (সড়কপথ)
একদিনে মাওয়া ভ্রমণ করা যাবে কি?
হ্যাঁ। মাওয়া ঘাট একদিনে ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত।
ফেসবুক: Kuhudak

