আফ্রিকার বন্যপ্রাণী নিয়ে কথা উঠলে সবার আগে যে জায়গার নাম মাথায় আসে তার একটা হলো কেনিয়ার মাসাই মারা ন্যাশনাল রিজার্ভ। পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত ওয়াইল্ডলাইফ সাফারি ডেস্টিনেশনগুলার মধ্যে এটা একদম উপরের সারিতেই থাকে। আজ চলুন জেনে নিই এই জায়গার জানা অজানা কিছু তথ্য।
মাসাই মারা কেনিয়ার দক্ষিণ পশ্চিম অংশে, তানজানিয়ার সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত। আয়তনে জায়গাটা খুব একটা বড় না, মাত্র পনেরোশো বর্গ কিলোমিটারের মতো, কিন্তু তানজানিয়ার সেরেঙ্গেটি ন্যাশনাল পার্কের সাথে মিলে এটা তৈরি করেছে এক বিশাল ইকোসিস্টেম, যা পঁচিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এই দুই জায়গা মিলিয়েই তৈরি হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণী দেখার জায়গাগুলার একটা।
আরও: কেন ম্যাকঅ্যালেন আমেরিকার সবচেয়ে সস্তা শহর
নামটা এসেছে স্থানীয় মাসাই জনগোষ্ঠীর নাম থেকে, আর মারা শব্দের অর্থ হলো ছোপ ছোপ দাগযুক্ত, কারণ এখানকার তৃণভূমিতে গাছপালা এমনভাবে ছড়িয়ে আছে যে দূর থেকে দেখলে সেটাকে ছোপ ছোপ মনে হয়।
এই রিজার্ভের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো গ্রেট মাইগ্রেশন বা মহাপরিযায়ন। প্রতি বছর জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে প্রায় পনেরো লাখ ওয়াইল্ডবিস্ট, চার লাখের মতো জেব্রা আর দুই লাখের বেশি থমসন গ্যাজেল সেরেঙ্গেটি থেকে মাসাই মারার দিকে ছুটে আসে ঘাস আর পানির খোঁজে। এই যাত্রার সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটা ঘটে মারা নদী পার হওয়ার সময়, যেখানে কুমিরে ভরা পানিতে হাজার হাজার প্রাণী ঝাঁপ দেয়, অনেকেই আর পাড়ে ফিরতে পারে না। এই দৃশ্যটাকেই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থলজ প্রাণীর দলবদ্ধ যাত্রা বলা হয়ে থাকে।
মাসাই মারায় আছে পঁচানব্বইটারও বেশি প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী আর পাঁচশো সত্তরের বেশি প্রজাতির পাখি। এখানে দেখা যায় আফ্রিকার বিগ ফাইভ, সিংহ, চিতা, মহিষ, গণ্ডার আর হাতি। শুধু বৃহত্তর মারা এলাকাতেই প্রায় আটশো পঞ্চাশটার মতো সিংহ আর চব্বিশশোর বেশি হাতি আছে বলে জানা যায়। মজার তথ্য হলো, স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে ওয়াইল্ডবিস্টের প্রকৃত সংখ্যা আগে যা ধারণা করা হতো তার প্রায় অর্ধেক, যা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
আরেকটা কম জানা তথ্য হলো, মাসাই মারা কিন্তু আসলে টেকনিক্যালি ন্যাশনাল পার্ক না, এটা একটা রিজার্ভ, যেটা পরিচালনা করে নারোক কাউন্টি সরকার। এর আশেপাশের বেশ কিছু কনজারভেন্সি স্থানীয় মাসাই জনগোষ্ঠীর মালিকানায়, যেখানে নিয়ন্ত্রিতভাবে গবাদি পশু চরানোর অধিকারও তাদের আছে। এভাবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আর স্থানীয় মানুষদের জীবিকা দুটোই একসাথে টিকে থাকার একটা দারুণ উদাহরণ এই জায়গা।
আরও: শেরপা কি
মারা ট্রায়াঙ্গেল নামের একটা অংশ আছে রিজার্ভের মধ্যে, যেটাকে বলা হয় নদী পারাপারের সবচেয়ে ভালো দেখার জায়গা, আর এখানেই আছে সবচেয়ে বিলাসবহুল কিছু সাফারি লজ।
প্রকৃতির এমন অবিশ্বাস্য শক্তি দেখতে চাইলে মাসাই মারা সত্যিই বাকেট লিস্টে রাখার মতো একটা জায়গা। যারা সাফারি বা বন্যপ্রাণী নিয়ে আগ্রহী তাদের জীবনে অন্তত একবার এই জায়গা দেখা উচিত।
ফেসবুক: Kuhudak