বাংলাদেশের পর্বতের তালিকা সহ বিস্তারিত বিবরণ দেখুন। বাংলাদেশ মূলত নিম্নভূমির দেশ হলেও এর ভূ-প্রকৃতিতে রয়েছে বৈচিত্র্যময় পর্বত ও পাহাড়। দেশের প্রায় ৮৭% ভূমি সমতল হলেও দক্ষিণ-পূর্বে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে সুউচ্চ পর্বত, উত্তর-পূর্বে সিলেটে নিচু টিলা এবং উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে গারো পাহাড়সহ কিছু উচ্চভূমি রয়েছে।
বাংলাদেশের পর্বতারোহীদের সংগঠন বাংলাট্রেকের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২,০০০ ফুট (৬১০ মিটার) এর অধিক উচ্চতার চূড়া রয়েছে প্রায় ছয় শতাধিক। তবে এর মধ্যে স্বতন্ত্র পর্বত প্রায় এক শতাধিক এবং ৩,০০০ ফুট (৯১০ মিটার) উচ্চতার পর্বত রয়েছে মাত্র আঠারোটি। বাংলাদেশের পাহাড়গুলো মূলত টারশিয়ারি যুগে প্লেটটেকটোনিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট এবং এগুলো ভাঁজ বা ভঙ্গিল শ্রেণীর পর্বত।
আরও: বাংলাদেশের সেরা ৫০ টি দর্শনীয় স্থান বা পর্যটন কেন্দ্র
সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নিয়ে বিতর্ক
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। সরকারিভাবে বর্তমানে তাজিংডং কে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যার সরকারি উচ্চতা ১,২৮০ মিটার (৪,২০০ ফুট)। এর আগে কেওক্রাডংকে সর্বোচ্চ পর্বত মনে করা হতো।
তবে আধুনিক জিপিএস জরিপ, এসআরটিএম (SRTM) উপাত্ত এবং পর্বতারোহীদের পরিমাপে দেখা গেছে যে সাকা হাফং বা মৌদুক মুয়াল প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, যার উচ্চতা প্রায় ১,০৬৪ মিটার (৩,৪৭৭ ফুট)। ২০০৬ সালে ব্রিটিশ পর্বতারোহী জিং ফুলেন সর্বপ্রথম এই পর্বত আবিষ্কার করেন এবং উচ্চতা পরিমাপ করেন।
২০২২ সালে বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর এই বিতর্ক নিরসনের জন্য পাহাড়গুলোর সরকারি জরিপ শুরু করে।
বাংলাদেশের প্রধান পর্বতসমূহের তালিকা
৩,০০০ ফুট এবং তার উপরে উচ্চতার পর্বত
| পর্বতের নাম | উচ্চতা (ফুট) | উচ্চতা (মিটার) | অবস্থান | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| সাকা হাফং (মৌদুক মুয়াল/মদক তং) | ৩,৪৭৭ | ১,০৬০ | বান্দরবান | বেসরকারিভাবে স্বীকৃত সর্বোচ্চ পর্বত |
| জো ত্ল্যাং (জৌতলাং) | ৩,৩২৫ | ১,০১৩ | বান্দরবান (থানচি) | বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে |
| দুমলং | ৩,৩১৭ | ১,০১১ | বান্দরবান | মদক রেঞ্জে অবস্থিত |
| যোগী হাফং | ৩,২৫২-৩,২৯৭ | ৯৯১-১,০০৫ | বান্দরবান | মদক রেঞ্জের অন্যতম চূড়া |
| কেওক্রাডং | ৩,২৩৪ | ৯৮৬ | বান্দরবান (রুমা) | পূর্বে সর্বোচ্চ বলে মনে করা হতো |
| মাইথাইজামা হাফং | ৩,১৭০-৩,১৭৪ | ৯৬৬-৯৬৭ | বান্দরবান | – |
| মুখরা থুতাই হাফং | ৩,১৬৫ | ৯৬৫ | বান্দরবান | – |
| খিনদোলতে ত্ল্যাং | ৩,১৪৯ | ৯৬০ | বান্দরবান | – |
| হাজাছড়া হাফং | ৩,১৩৩ | ৯৫৫ | বান্দরবান | – |
| কপিটাল | ৩,১২০ | ৯৫১ | বান্দরবান | – |
| রেং ত্ল্যাং/আহ্লা পা তং | ৩,১০৩ | ৯৪৬ | বান্দরবান | – |
| ক্রেইকুং তং | ৩,০৯৩ | ৯৪৩ | বান্দরবান | – |
| সাদরা হাফং | ৩,০৮৩ | ৯৪০ | বান্দরবান | – |
| লাখু ডং | ৩,০৭৭ | ৯৩৮ | বান্দরবান | – |
| তং মে | ৩,০৭৪ | ৯৩৭ | বান্দরবান | – |
| তাওবহ হাফং | ৩,০৫৭ | ৯৩২ | বান্দরবান | – |
| লাইস্রা হাফং | ৩,০২৮ | ৯২৩ | বান্দরবান | – |
| সিপ্পি আরসুয়াং | ৩,০০৫ | ৯১৬ | বান্দরবান | – |
সরকারিভাবে স্বীকৃত উচ্চতম পর্বত
| পর্বতের নাম | সরকারি উচ্চতা (ফুট) | সরকারি উচ্চতা (মিটার) | প্রকৃত উচ্চতা (জিপিএস) | অবস্থান |
|---|---|---|---|---|
| তাজিংডং (বিজয়) | ৪,২০০ | ১,২৮০ | ২,৭২২-২,৭৯২ ফুট (৮৩০-৮৫১ মিটার) | বান্দরবান (থানচি) |
| কেওক্রাডং | ৪,০৪০ | ১,২৩০ | ৩,২৩৪-৩,২৩৫ ফুট (৯৮৬ মিটার) | বান্দরবান (রুমা) |
প্রধান পর্বতসমূহের বিস্তারিত বিবরণ
সাকা হাফং (মৌদুক মুয়াল)
উচ্চতা: ১,০৬০-১,০৬৪ মিটার (৩,৪৭৭ ফুট)
অবস্থান: বান্দরবান জেলা, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে
অন্যান্য নাম: মদক তং, মোদক তুয়াং, ত্লাংময়, ক্ল্যাংময়, বর্ডার হুম
সাকা হাফং বাংলাদেশের বেসরকারিভাবে স্বীকৃত সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। ২০০৬ সালে ইংরেজ পর্বতারোহী জিং ফুলেন সর্বপ্রথম এই পর্বত আবিষ্কার করেন এবং জিপিএস দিয়ে এর উচ্চতা পরিমাপ করেন ১,০৬৪ মিটার। তার এই পরিমাপ রাশিয়া-পরিচালিত এসআরটিএম উপাত্তের সাথে মিলে যায়, যেখানে এর উচ্চতা দেখানো হয়েছে ১,০৫২ মিটার।
২০০৭ সালে ইয়াহিয়া খানের নেতৃত্বে প্রথম বাংলাদেশী দল সাকা হাফং আরোহণ করেন, যে দলে ছিলেন দেশের এভারেস্ট আরোহণকারী পর্বতারোহী সজল খালেদ। মূলত সেই সময় থেকে পর্বতটি ত্লাংময় নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় মুরং জনগোষ্ঠী এটিকে “বর্ডার হুম” এবং বম জনগোষ্ঠী “ক্ল্যাংময়” নামে ডাকে।
তাজিংডং (বিজয়)
সরকারি উচ্চতা: ১,২৮০ মিটার (৪,২০০ ফুট)
প্রকৃত উচ্চতা (জিপিএস): ৮২৯-৮৫১ মিটার (২,৭২২-২,৭৯২ ফুট)
অবস্থান: বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলা, সাইচল পর্বতসারি
অন্যান্য নাম: লুংফে তং (মার্কিন ও সোভিয়েত মানচিত্রে)
তাজিংডং বাংলাদেশের সরকারিভাবে স্বীকৃত সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এবং একটি জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। স্থানীয় ভাষায় “তাজিং” শব্দের অর্থ বড় বা সর্বোচ্চ এবং “ডং” শব্দের অর্থ পাহাড়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পরে পর্বতারোহীরা জিপিএস পদ্ধতিতে পরিমাপ করে দেখেন যে তাজিংডংয়ের প্রকৃত উচ্চতা সরকারি উচ্চতার চেয়ে অনেক কম। বাংলাট্রেক অনুসারে, জিপিএস পদ্ধতিতে তাজিংডংয়ের উচ্চতা পরিমাপ করা হয়েছিল ৮২৯.৬ মিটার (২,৭২২ ফুট)।
তাজিংডং পর্বতের পাদদেশে সিমপ্লাংপি পাড়া নামে একটি গ্রাম রয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী শেরকরপাড়াকে “তাজিংডংয়ের বেসক্যাম্প” বলা হয়। এই পর্বতে যাওয়ার পথে বম, ম্রো, লুসাই, পাংখোয়া, খুমি ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
জো ত্ল্যাং (জৌতলাং)
উচ্চতা: ১,০১৩ মিটার (৩,৩২৫ ফুট)
অবস্থান: বান্দরবান জেলার থানচি, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত
অন্যান্য নাম: মোদক মুয়াল (আমেরিকা ও রাশিয়ার টপোগ্রাফিক মানচিত্রে)
বেসরকারিভাবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। “জো” শব্দের অর্থ বাওম ভাষায় মিজো, যা ভারতের মিজোরাম থেকে উদ্ভূত এবং “ত্ল্যাং” দ্বারা পাহাড় নির্দেশিত হয়। এই পর্বতটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের পূর্ব দিগন্ত রক্ষা করছে।
কেওক্রাডং
সরকারি উচ্চতা: ১,২৩০ মিটার (৪,০৪০ ফুট)
প্রকৃত উচ্চতা (জিপিএস): ৯৮৬ মিটার (৩,২৩৪ ফুট)
অবস্থান: বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা
কেওক্রাডং একসময় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত ছিল। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পরে পরিচালিত জরিপে তাজিংডংকে সরকারিভাবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে বেসরকারি জরিপে দেখা যায় যে তাজিংডংয়ের প্রকৃত উচ্চতা কেওক্রাডংয়ের চেয়ে কম।
আধুনিক রাশিয়া পরিচালিত এসআরটিএম উপাত্ত এবং জিপিএস গণনায় দেখা গেছে কেওক্রাডংয়ের প্রকৃত উচ্চতা ১,০০০ মিটারের কম, প্রায় ৯৮৬ মিটার। শৃঙ্গের শীর্ষে সেনাবাহিনী কর্তৃক উৎকীর্ণ ফলকে এর উচ্চতা লেখা আছে ৩,১৭২ ফুট।
যোগী হাফং
উচ্চতা: ৯৯১-১,০০৫ মিটার (৩,২৫২-৩,২৯৭ ফুট)
অবস্থান: বান্দরবান জেলা, মদক রেঞ্জ
মদক রেঞ্জের অন্যতম প্রধান পর্বতশৃঙ্গ। পাহাড় প্রেমীদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় গন্তব্য। ২০১২ সালে যোগী হাফং থেকে ফেরার পথে একটি দুর্ঘটনায় কয়েকজন পর্বতারোহী মারা যান, যা বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসে একটি দুঃখজনক ঘটনা।
বাংলাদেশের পর্বতের ভৌগোলিক বন্টন
চট্টগ্রাম বিভাগ
- বান্দরবান জেলা: সর্বোচ্চ পর্বতগুলোর অধিকাংশই এখানে অবস্থিত, বিশেষত রুমা ও থানচি উপজেলায়। ৩,০০০ ফুটের বেশি উচ্চতার ১৮টি পর্বতের মধ্যে ১৩টি বান্দরবানে অবস্থিত।
- রাঙামাটি জেলা: ৩,০০০ ফুটের বেশি উচ্চতার ৫টি পর্বত এখানে অবস্থিত।
- খাগড়াছড়ি জেলা: আলুটিলা পাহাড়সহ কিছু মাঝারি উচ্চতার পাহাড় এখানে রয়েছে।
সিলেট বিভাগ
সিলেট অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে নিচু টিলা এবং পাহাড় রয়েছে, যেগুলোর উচ্চতা সাধারণত ৩০০-৫০০ ফুটের মধ্যে।
ময়মনসিংহ বিভাগ
উত্তরে গারো পাহাড়ের কিছু অংশ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, বিশেষত শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়। গারো পাহাড় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পাহাড় হিসেবে পরিচিত।
আরও: বাংলাদেশের ৬৪ জেলার দর্শনীয় স্থান
পর্বত অঞ্চলের জনগোষ্ঠী
বাংলাদেশের পর্বত অঞ্চলে বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। প্রধান জনগোষ্ঠীগুলো হলো:
- বম জনগোষ্ঠী – তাজিংডং, সাকা হাফং অঞ্চলে
- ম্রো/মুরং জনগোষ্ঠী – পার্বত্য চট্টগ্রামের উচ্চভূমিতে
- লুসাই জনগোষ্ঠী – পাহাড়ি অঞ্চলে
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী – পার্বত্য অঞ্চলে
- খুমি জনগোষ্ঠী – বান্দরবান অঞ্চলে
- ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী – পার্বত্য অঞ্চলে
- চাকমা জনগোষ্ঠী – পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়
- মারমা জনগোষ্ঠী – বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে
পর্যটন ও পর্বতারোহণ
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির (১৯৯৭) পরে বাংলাদেশের পর্বত অঞ্চলে পর্যটক ও পর্বতারোহীদের যাতায়াত বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে তাজিংডং, কেওক্রাডং, সাকা হাফং, যোগী হাফং প্রভৃতি পর্বতে ট্রেকিং ও পর্বতারোহণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
তবে পর্যাপ্ত ও টেকসই পর্যটন পরিকল্পনার অভাব এবং মানবসৃষ্ট কারণে এই পাহাড়গুলোর প্রকৃতি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কখনো কখনো পর্যটন বিধিনিষেধের আওতায় পড়ে।
উচ্চতা পরিমাপ নিয়ে বিতর্ক
বাংলাদেশের পর্বতের উচ্চতা নিয়ে সরকারি এবং বেসরকারি পরিমাপে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে:
সমস্যার কারণসমূহ:
- পুরনো পরিমাপ পদ্ধতি এবং ভুল তথ্য
- জিপিএস প্রযুক্তির ব্যবহার না করা
- বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত ভিন্ন ভিন্ন তথ্য
- সরকারিভাবে আধুনিক জরিপ না হওয়া
সমাধানের উদ্যোগ: ২০২২ সালে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তরের কাছে চিঠি পাঠিয়ে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নির্ণয় ও অন্যান্য পর্বতগুলোকে সরকারিভাবে পরিমাপ করে গেজেট প্রণয়নের জন্য অনুরোধ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে জরিপ অধিদপ্তর ৩৫ জনের একটি দল নিয়ে ৪০ দিনব্যাপী জরিপের উদ্যোগ নেয়।
পর্বত অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য
বাংলাদেশের পর্বত অঞ্চল জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। এখানে রয়েছে:
- বনাঞ্চল: ক্রান্তীয় চিরসবুজ ও আর্দ্র পাতাঝরা বনভূমি
- বন্যপ্রাণী: হাতি, বন্য মহিষ, বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ, বানর, শূকর ও পাখি
- ঝর্ণা: সাঙ্গু নদী, মাতামুহুরী নদী এবং অসংখ্য ছোট ছোট ঝর্ণা
- উদ্ভিদ: বাঁশ, বেত, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এবং ঔষধি উদ্ভিদ
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- বাংলাদেশের পাহাড়সমূহের গড় উচ্চতা প্রায় ২,০৫০ ফুট
- পাহাড়গুলো প্লেটটেকটোনিক প্রক্রিয়ায় টারশিয়ারি যুগে সৃষ্ট
- দেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% পাহাড়ি এলাকা
- পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি জেলা সমষ্টি
- সাঙ্গু নদী বাংলাদেশের একমাত্র নদী যা পর্বতের চূড়া থেকে উৎপন্ন
আরও: বাংলাদেশের ঋতু ও আবহাওয়া
সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের পর্বত অঞ্চল বিভিন্ন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন:
- বনউজাড়করণ: পাহাড়ি বনভূমি উজাড় করে জুম চাষ ও বসতি স্থাপন
- ভূমিক্ষয়: বন কাটার ফলে মাটির স্থিতিশীলতা হ্রাস
- জনসংখ্যা বৃদ্ধি: স্থানীয় এবং বহিরাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধি
- অপরিকল্পিত পর্যটন: পরিবেশ সচেতন পর্যটনের অভাব
- অবৈধ কাঠ ও বন্যপ্রাণী শিকার
বাংলাদেশের পর্বতগুলো শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, পানিসম্পদের উৎস এবং আদিবাসী সংস্কৃতির লালনক্ষেত্র হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও দেশের পর্বত এলাকা সীমিত, তবুও এর সঠিক সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।
সাম্প্রতিক সরকারি উদ্যোগে পর্বতগুলোর সঠিক উচ্চতা নিরূপণ এবং সুরক্ষার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর সাথে সাথে পরিবেশ সংরক্ষণ, আদিবাসী অধিকার রক্ষা এবং দায়িত্বশীল পর্যটন উন্নয়নের মাধ্যমে এই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা সম্ভব।
ফেসবুক: GoArif

