Skip to main content

খাগড়াছড়ির আলুটিলা গুহায় প্রথমবার, যেমন ছিল আমার অভিজ্ঞতা

ঢাকা থেকে একা একা খাগড়াছড়ি যাওয়ার প্ল্যানটা একদিন হঠাৎ করেই করে ফেলেছিলাম। অনেকেই বলেছিল, একা গেলে নাকি বোর লাগবে। কিন্তু আমার কাছে একা ভ্রমণের মজাটাই আলাদা। নিজের মতো করে ঘোরা যায়, যেখানে ইচ্ছা থামা যায়, কারও জন্য অপেক্ষাও করতে হয় না।

রাতের বাসে উঠে জানালার পাশে বসেছিলাম। বাস ছাড়ার পর শহরের আলো ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছিল। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, টেরই পাইনি। ভোরে ঘুম ভাঙতেই দেখি চারপাশের দৃশ্য বদলে গেছে। রাস্তার দুই পাশে শুধু সবুজ আর সবুজ। মনে হচ্ছিল, ঠিক জায়গাতেই চলে এসেছি।

নাস্তা করে সোজা চলে গেলাম আলুটিলা গুহার দিকে। গুহার সামনে দাঁড়িয়ে প্রথমে খুব একটা কিছু মনে হয়নি। ভাবলাম, এত মানুষ যে এত গল্প করে, দেখি ভেতরে আসলে কী আছে।

একটা টর্চ নিয়ে গুহার ভেতরে ঢুকতেই পুরো পরিবেশটাই বদলে গেল। কয়েক পা এগোনোর পরই চারপাশ অন্ধকার। সামনে শুধু টর্চের আলো। কোথাও মাথা নিচু করতে হচ্ছে, কোথাও আবার পাথর ধরে সাবধানে হাঁটতে হচ্ছে। ভেতরে এত ঠান্ডা যে গরমের দিনেও গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল। চারপাশে শুধু পানির ফোঁটা পড়ার শব্দ। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, আমি যেন কোনো সিনেমার দৃশ্যে হাঁটছি।

একসময় টর্চের আলোতে সামনে একটা সরু পথ দেখতে পেলাম। পথটা যত এগোচ্ছিল, ততই কৌতূহল বাড়ছিল। মনে হচ্ছিল, সামনে আর কী অপেক্ষা করছে। কয়েক মিনিট পর হঠাৎ করেই সামনে দিনের আলো দেখা গেল। গুহা থেকে বাইরে বের হয়েই বড় করে একটা নিঃশ্বাস নিলাম। অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, ছোট্ট একটা অভিযান শেষ করলাম।

বাইরে এসে কিছুক্ষণ পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে বসে ছিলাম। চারপাশে এত শান্ত পরিবেশ যে সময়ের হিসাবই ভুলে গিয়েছিলাম। তখন মনে হলো, একা ভ্রমণ করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নিজের সঙ্গে সময় কাটানো যায়। কোনো তাড়া নেই, কোনো পরিকল্পনার চাপ নেই। শুধু আপনি, প্রকৃতি আর অসংখ্য নতুন অভিজ্ঞতা।

আজও আলুটিলা গুহার সেই অন্ধকার পথটার কথা মনে পড়লে বুকের ভেতর অন্যরকম একটা রোমাঞ্চ কাজ করে। খাগড়াছড়িতে অনেক সুন্দর জায়গা আছে, কিন্তু আমার কাছে আলুটিলা গুহাই সেরা লাগে। এটা এমন একটা অভিজ্ঞতা, যেটা নিজের চোখে না দেখলে অনুভব করা সম্ভব নয়।