ভিসা বন্ড কী
ভিসা বন্ড হলো নির্দিষ্ট কিছু ভিসা আবেদনকারী বা ভিসাধারীর কাছ থেকে নেওয়া এক ধরনের ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত।
সাধারণত এর উদ্দেশ্য থাকে আবেদনকারী যেন ভিসার শর্ত মেনে চলে এবং অনুমোদিত সময় শেষ হলে দেশ ছেড়ে যায়। শর্ত ঠিকভাবে পালন করলে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী এই জামানতের টাকা ফেরত পাওয়া যায়। তবে কোন দেশে, কোন ভিসায় এবং কার কাছ থেকে বন্ড নেওয়া হবে, সেটি দেশভেদে আলাদা।
- ভিসা বন্ড সাধারণ ভিসা ফি নয়। এটি আলাদা একটি আর্থিক জামানত, যা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে।
- সব ভিসা আবেদনকারীর কাছ থেকে ভিসা বন্ড নেওয়া হয় না। নির্দিষ্ট দেশ, ভিসার ধরন বা আবেদনকারীর পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বন্ডের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
- ভিসা বন্ডের একটি উদ্দেশ্য হলো আবেদনকারী যেন অনুমোদিত থাকার সময় শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে না যান, সেটার জন্য আর্থিক নিশ্চয়তা রাখা।
- ভিসা বন্ডের টাকা জমা দিলেই ভিসা পাওয়া নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীকে ভিসার অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়।
- অস্ট্রেলিয়াতেও কিছু ভিসার ক্ষেত্রে security bond নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন Sponsored Family stream-এর Visitor visa subclass 600-এ কর্তৃপক্ষ স্পনসরকে security bond দিতে বলতে পারে।
- অস্ট্রেলিয়ার কিছু অভিবাসন ভিসায় Assurance of Support-এর অংশ হিসেবেও refundable bond দিতে হয়। এই বন্ড নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাখা হয় এবং শর্ত অনুযায়ী পরে ফেরত দেওয়া হতে পারে।
- যুক্তরাষ্ট্রেও বর্তমানে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য B-1/B-2 ভিসায় visa bond-এর ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশ এই তালিকায় রয়েছে এবং বাংলাদেশের জন্য নিয়মটি ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
- যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত দেশের কোনো নাগরিক B-1/B-2 ভিসার জন্য অন্যথায় যোগ্য হলে তাকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের বন্ড দিতে বলা হতে পারে। কত টাকা দিতে হবে, তা ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডের টাকা নিজের ইচ্ছায় আগে থেকে জমা দেওয়া যাবে না। কনস্যুলার কর্মকর্তা নির্দেশ দেওয়ার পর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় জমা দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকার বলেছে, তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে বন্ডের টাকা দেওয়া যাবে না।
- যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে বন্ডের শর্ত ঠিকভাবে পালন করা হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন অনুমোদিত থাকার সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের হওয়ার তথ্য রেকর্ড হলে বন্ড ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
- আবার ভিসাধারী অনুমোদিত সময়ের পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে গেলে বা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ করলে বন্ড বাজেয়াপ্ত হতে পারে। তাই বন্ডকে শুধু অতিরিক্ত ভিসা ফি মনে করা ঠিক নয়।
- ভিসা বন্ডের নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো দেশের ভিসার জন্য বন্ড দিতে হবে কি না, কত টাকা দিতে হবে এবং টাকা কীভাবে জমা দিতে হবে—এসব তথ্য সবসময় সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করা উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসা বন্ড কোনো দালাল বা এজেন্টকে দেওয়ার টাকা নয়। কোনো দেশের কর্তৃপক্ষ বন্ড চাইলে তাদের নির্ধারিত সরকারি পদ্ধতিতেই টাকা জমা দিতে হবে।
#ভিসা #বন্ড #যুক্তরাষ্ট্র #বাংলাদেশ
