সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজ
ভ্রমণ স্থান | সুন্দরবন |
অবস্থান | খুলনা, বাংলাদেশ |
গন্তব্য | সুন্দরবন, করমজল, কটকা, হারবাড়িয়া ইত্যাদি |
স্থিতিকাল | ৩ দিন ২ রাত |
পরিবহন | জাহাজ/ শিপ |
থাকার ব্যবস্থা | কেবিন, জাহাজ |
খাবার ব্যবস্থা | অন্তর্ভুক্ত |
ভ্রমন খরচ | ৭,৫০০ টাকা (শুরু) |
ঢাকা থেকে দূরত্ব | ২৪২ কিলোমিটার |
অভিজ্ঞ গাইড | আছে |
পরিবহন ব্যবস্থা | এসি/ নন-এসি |
থাকার ব্যবস্থা (গ্রুপ) | ৯ থেকে ৭৫ জন |
বাংলাদেশের খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা জেলা ও বাগেরহাট জেলা এবং ভারতের কিছু অংশ যেমন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দুই জেলা উত্তর চব্বিশ পরগনা ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জুড়ে ১,৩৯,৫০০ হেক্টর বা, (৩,৪৫,০০০ একর) আয়তনের বিশাল এই প্রশস্ত বনভূমি বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম এক বিস্ময়কর বনভূমি।
সুন্দরবনের এই ভ্রমণ প্যাকেজটি ৩ দিন ২ রাতের। ৭,৫০০ টাকায় আপনি সুন্দরবন, আন্ধারমানিক, করমজল, কচি খালি, কটকা, হারবারিয়া ইত্যাদি দেখতে পারবেন। সাথে আশেপাশের দর্শনীয় স্থান গুলো দেখার সুযোগ তো রয়েছেই!
আবার এই প্যাকেজের মধ্যেই খাবার মেনু রয়েছে! সুন্দরবন ভ্রমণের আগে খুলনা জেলার বিখ্যাত খাবারের তালিকা দেখে নিতে পারেন। আপনি ভ্রমণের ৩ দিন সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার এবং রাতের খাবার পাবেন। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৫ বেলার খাবার পাবেন। খাবার মেনুতে কি কি থাকছে সেটা নিয়ে একটু পরেই বলছি।
*এই প্যাকেজে ছেলে/মেয়ে/কাপল যে কেউ যেতে পারবেন। চাইলে ফ্যামিলির সবাইকে নিয়েও যেতে পারবেন।
আরও: সুন্দরবন নিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর থ্রিলিং অথবা গা শিউরে ওঠার মতো বাস্তব গল্প পড়তে পারেন: সুন্দরবনে হারিয়ে যাওয়া ৬ কিশোরের শ্বাসরুদ্ধকর ভ্রমণ কাহিনী
সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজে কি কি দেখবেন
সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজে (Sundarbans Tour Package) কি কি রয়েছে অথবা দর্শনীয় স্থান গুলোতে কি কি দেখবেন তার একটি সংক্ষিপ্ত লিস্ট। বলা বাহুল্য যে, আরও চমৎকার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে পাবেন। সুন্দরবন এর হরিণ, কুমির, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, বানর ইত্যাদি এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের ঐতিহ্যগত সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড। এছাড়া আশেপাশের দর্শনীয় স্থান গুলো দেখার সুযোগতো রয়েছেই!
সুন্দরবন
করমজল পর্যটন কেন্দ্র
কটকা সমুদ্র সৈকত
হাড়বাড়িয়া ইকো-পার্ক
আন্দারমানিক
কচিখালী খাল
জামতলা সী-বিচ
কচিখালী অফিস পার্ক
কটকা ওয়াচ টাওয়ার
টাইগার পয়েন্ট
ডিমের চর
কটকা অফিসপার
টাইগার টিলা
কচিখালী অভায়ারন্য
ভ্রমণবৃত্তান্ত
১ম দিন
📌 হাড়বাড়িয়া ইকো-পর্যটন কেন্দ্র/আন্ধারমানিক
নির্ধারিত দিনে সকাল ৭টা থেকে ৭:৩০ এর মধ্যে আমরা খুলনা রূপসা ঘাট/ জেলখানা থেকে সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করব। প্রথমে আমাদের ট্যুর গাইড খুলনা থেকে রিসিভ করে ছোট বোটে করে বড় জাহাজ/শিপে নিয়ে যাবে। তারপর ফ্রেশ হয়ে সকালের নাস্তা পরিবেশন। জাহাজ যাত্রা শুরু করবে।
রূপসা ব্রিজ থেকে জাহাজ যাত্রা শুরু করে রেল ব্রিজ ক্রস করবে। জাহাজ মংলা পোর্টে পৌঁছানোর পূর্বে খুলনা শীপ ইর্য়াড ও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেখা যাবে। দুপুর ১ টা থেকে ২টার মধ্যে আমরা চাঁদপাই ফরেস্ট অফিস পৌছাবো। বন-বিভাগের অনুমোদনপত্র ও গার্ড নিয়ে আমরা হাড়বাড়িয়া ইকো-পর্যটন কেন্দ্র/আন্ধারমানিক পৌঁছাবো।
দুপুরের লাঞ্চ করে আমরা জাহাজ থেকে নেমে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত হাড়বাড়িয়া ইকো-পর্যটন কেন্দ্র/আন্ধারমানিক ঘুরে দেখব। হাড়বাড়ীয়াতে বন্যপ্রানীর পানি খাবার জন্য একটি মিষ্টি পানির পুকুর আছে। আছে বন ও বন্যপ্রানী পর্যবেক্ষণ করার জন্য ওয়াচ টাওয়ার। আর কাঠের তৈরী হাটার ট্রেইল। বিকাল ৫ টা বা এর আশেপাশে সময়ে আমরা কটকা অভয়ারণ্য এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করব। রাত আনুমানিক ১২/১ টার দিকে পৌঁছে আমরা জাহাজ/শিপে রাত কাটাব।
২য় দিন
📌 কটকা সমুদ্র সৈকত, কচিখালী, ওয়াচ টাওয়ার
২য় দিন সকালে খুব ভোরে আমরা কান্ট্রি বোটে করে কটকার আশেপাশে ক্যানেল ক্রুজিং করব। তিন টিলা সহ কটকা ওয়াচ টাওয়ার হয়ে জামতলা সী-বিচ এর গহীন বনের মধ্যে দিয়ে পায়ে হেটে ভ্রমণ করব (কটকা জামতলা বীচ যাওয়া আসা আনুমানিক ৬ কিলোমিটার)। তারপ কটকা অফিস পার্ক ভ্রমণ করব। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে সেখানে প্রচুর হরিন দেখা পাবো। আমরা সকাল ৯টার দিকে জাহাজ/শিপে চলে এসে ব্রেকফাস্ট করব।
ব্রেকফাস্ট শেষে, আমরা কচিখালীর দিকে রওনা দিব এবং দুপুর ১টা নাগাদ কচিখালী পৌঁছাব। কচিখালী পৌঁছে প্রথমে আমরা চলে যাবো ডিমের চর। কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে আবার শিপে চলে আসব প্রায় ২টা নাগাদ। ফ্রেশ হয়ে দুপুর ২:৩০ এর দিকে লাঞ্চ করব। দুপুরের খাবার খেতে একটু রেস্ট নিতে নিতে ৩ টা বেজে যাবে।
লাঞ্চ শেষ করে প্রায় ৩টার দিকে আমরা কচিখালি অফিস পার্ক নামব। এখানে আমরা ক্যানেল ক্রুজিং করব। কচিখালীতে ঘুরাঘুরি শেষ করে সন্ধ্যা ৫:৩০ নাগাদ সূর্যাস্তের পরে শীপে চলে আসব। কিছুক্ষণ জাহাজে অবস্থান করব।
তারপর নদীর জোয়ারের সময় রাত ৭টা নাগাদ করমজল পর্যটন কেন্দ্র এর উদ্দেশ্যে রওনা হব। রাতে আমরা করমজলে জাহাজে রাত্রি যাপন করব।
৩য় দিন
📌 করমজল ইকো ট্যুরিজম সেন্টার, মংলা স্থানীয় গ্রাম/করমজল বন্যপ্রাণী কেন্দ্র/হারবারিয়া ম্যানগ্রোভ ট্রিল, কুমিরের প্রজননকেন্দ্র, ওয়াচ টাওয়ার
ভ্রমণের ৩য় এবং শেষ দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সকালের নাস্তা করে করমজল ইকো ট্যুরিজম সেন্টার পরিদর্শন করব। সকাল ১০টায় মংলা স্থানীয় গ্রাম/করমজল বন্যপ্রাণী কেন্দ্র/হারবারিয়া ম্যানগ্রোভ ট্রিল পরিদর্শন করে করমজলে কুমিরের প্রজননকেন্দ্র দেখব। ওয়াচ টাওয়ার পরিদর্শন করব।
এরপর আমরা স্থানীয় গ্রামবাসীদের ঐতিহ্যগত সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে যোগ দিব এবং লোকাল ভিলেজের সাংস্কৃতি উপভোগ করব। ঘুরাঘুরি শেষে জাহাজে এসে লাঞ্চ করব। তারপর আমাদের ৩ দিনের ভ্রমণ এবং অসাধারণ স্মৃতি নিয়ে জাহাজে করে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দিব। আনুমানিক সন্ধ্যা ৫ টার দিকে খুলনা পৌঁছে স্নাক্স পরিবেশন করা হবে। স্নাক্স শেষে আমাদের ভ্রমণ যাত্রা শেষ করব।
বিঃদ্রঃ জোয়ার ভাটার কারণে ২/৩ ঘন্টা সময় ব্যবধান হতে পারে।
ভ্রমণ প্যাকেজে যা যা থাকছে
- জাহাজ/শিপে ৩ দিন ২ রাত থাকা।
- এসি ট্যুরিস্ট শিপ ২/৩/৪ জন শেয়ার বেসিস থাকা।
- খুলনা → সুন্দরবন → হাড়বাড়িয়া/আন্ধারমানিক → কটকা → কচিখালী → করমজল →ওয়াচ টাওয়ার →খুলনা ভ্রমণ।
- তিন দিনের সকল প্রকার খাবার (ব্রেকফাষ্ট + লাঞ্চ + ডিনার ও প্রতিদিন ২ টি স্যাক্স)
- প্রতিদিন দিনে ২বার নাস্তা। নাস্তায় থাকবে (বিস্কুট / কেক / ফল, চা / কফি)।
- ২৪ ঘন্টা খাবার পানি সরবরাহ।
- ট্যুর আইটেনারি অনুযায়ী সকল স্পট পরিদর্শন।
- নিরাপত্তার জন্য ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে অস্ত্রধারী গার্ড।
- বনের ভিতরে শেষ রাতে বার-বি-কিউ ডিনার।
- জাহাজ/শিপ এর কেবিন -এ ২ রাত এসি/নন-এসি রাত্রি যাপনের খরচ।
- ছোট বোটে করে ক্যানেল ক্রুজিং।
- যাবতীয় এন্ট্রি টিকেট।
- অভিজ্ঞ ট্যুর গাইড।
- অভিজ্ঞ বাবুর্চি ও সার্ভিস বয়।
- সুদক্ষ ক্রু।
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্যাকেজে যা যা থাকছেনা
- সকল ট্রান্সপোর্ট।
- যেকোন ধরনের ব্যাক্তিগত খরচ।
- পার্সোনাল মেডিসিন।
- সফট বা হার্ড ড্রিংস।
- ক্যামেরা এন্ট্রি ফি।
- যাত্রা বিরতিতে কোন খাবার খরচ।
- প্রতি বেলার নির্ধারিত ফুড মেনুর বাইরে কিছু খেতে চাইলে সেই খরচ।
- উপরে উল্লেখ নেই এমন যেকোনো খরচ।
সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজ মূল্য
৩ দিনের সুন্দরবন ভ্রমণে খরচ এবং সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজ মূল্য নিচে দেওয়া হল। ভ্রমণ প্যাকেজ খরচ যে কোন সময় পরিবর্তন হতে পারে। তাই ভ্রমণের পূর্বে আমাদের হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করে আপডেট মূল্য জেনে নিবেন।
নন-এসি প্যাকেজ মূল্য
- ডিলাক্স টুইন/সিঙ্গেল রুম (কমন বাথরুম সহ) = ৭,৫০০/- জনপ্রতি।
- শিশু (০-৩ বছর) : ফুল ফ্রি, শিশু (৪-৮ বছর ) যদি আলাদা বেড না লাগে তবে ৫০%।
এসি প্যাকেজ মূল্য
- ভি.আই.পি সুইট রুম (এটাচড বাথরুম সহ) = ১৮,০০০ টাকা জনপ্রতি ।
- ভি.আই.পি রুম (এটাচড বাথরুম সহ) = ১৬,০০০ টাকা জনপ্রতি ।
- ডিলাক্স টুইন/সিঙ্গেল রুম (কমন বাথরুম সহ) = ১৩,০০০/- জনপ্রতি।
- শিশু (০-৩ বছর) : ফুল ফ্রি, শিশু (৪-৮ বছর ) যদি আলাদা বেড না লাগে তবে ৫০%।
⚠️ বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, বৈদেশিক রাজস্ব: ১০,৩৫০ টাকা জনপ্রতি (শুধু মাত্র বিদেশী পর্যটকদের জন্য)।
⚠️ আমাদের ট্যুরে কোন রকম হিডেন চার্জ নাই।
খাবার মেন্যু
১ম দিনের খাবার তালিকা
১। সকাল: জুস, রুটি, বাটার, জেলি, ডিম, কলা, মধু, চা/কফি।
২। বেলা ১১ টা: সিংগারা/পাকুরা/ড্রাই কেক, চা/কফি।
৩। দুপুর: সাদাভাত, ভর্তা, মিক্স ভেজিটেবল, ভেটকি (কোরাল) মাছ, সামুদ্রিক মাছ, মুরগির কারী, ডাল।
৪। সন্ধা ৬ টা: ফ্রেন্স ফ্রাই / পুরি, চা/কফি।
৫। রাত্র: এগ ফ্রাইড রাইস, চিকেন ফ্রাই, চিংড়ি মাছ, চাইনিস ভেজিটেবল, সালাদ, সুপ, মিষ্টি।
২য় দিনের খাবার তালিকা
১। সকাল ৫ টা ৩০: বিস্কুট, চা/কফি।
২। সকালে ৯ টা: ভুনা খিচুরি, বেগুন ভাজী, ডিমের মালাই কারী, আচার, সালাদ, চা/ কফি।
৩। বেলা ১১ টা: পেয়ারা/ বিস্কুট, চা/কফি, সালাদ।
৪। দুপুর: সাদাভাত, ভর্তা, ভেজিটেবেল, ফাইস্যা মাছ, সামুদ্রিক মাছ, মুরগির কারী, ডাল, সালাদ ।
৫। সন্ধা ৬ টা: নুডুলস, চা/কফি।
৬। রাত্র: বারবিকিউ- পরাটা, চিকেন বারবিকিউ, ফিস বারবিকিউ, হাসের রেজালা, রাইতা সালাত, সফট ডিংক্স, ফ্রুট কাস্টার্ড।
৩য় দিনের খাবার তালিকা
১। সকাল: সাদাভাত, আলুভর্তা, বেগুনভর্তা, কলা ভর্তা, ডিম ভাজি, ডাল ।
২। বেলা ১১ টা: ভেজিটেবল পাকুরা, পুরি, চা/কফি।
৩। দুপুর: প্লেন পোলাউ, গলদা চিংড়ি, খাশির মাংশ, মাছ ফ্রাই , সালাদ, দধি, সফট ডিংস।
৪। বিকেল: ভেজিটেবল পাকুরা / পুরি/ বিস্কুট, চা/কফি।
বিঃদ্রঃ সর্বক্ষন মিনারেল পানির ব্যবস্থা থাকবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
আমাদের সুন্দরবন ভ্রমণ প্যাকেজে আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বনবিভাগ থেকে থাকবে সার্বক্ষনিক আর্মসসহ দুই জন নিরাপত্তা কর্মী। আবহাওয়া এবং অন্য যে কোন প্রয়োজনে VSF এর মাধ্যমে ফরেস্ট, কোষ্ট গার্ড এবং নৌ-বাহিনীর সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন।
তাই আপনার ভ্রমণ আমাদের সাথে নিরাপদ। আজই ভ্রমণ করুন। আপনার ভ্রমণ হোক নিরাপদ এবং আনন্দময়।
ভ্রমনকালীন নিয়মাবলী
- অন্য কেউ কষ্ট পাবে এমন কোন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
- যে কোন পরিস্থিতিতে ভ্রমণ পরিকল্পনার পরিবর্তিত বা পরিমার্জিত হতে পারে।
- প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু করা যাবে না।
- কোন ধরনের মাদক দ্রব্য সেবন বা সাথে নেয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- যেকোনো প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।
সুন্দরবন ভ্রমণ টিপস
- সুন্দরবন হলো বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত বনভূমি যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম। তাই, ভ্রমণের পূর্বে আপনি আপনার ভ্রমণ প্ল্যান ঠিক করে নিবেন।
- সুন্দরবন ভ্রমণে হাঁটার পথ রয়েছে, তাই শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে এখানে ভ্রমণ করবেন না।
- লাল কালার জীবজন্তু কে বেশি আকর্ষণ করে। সুন্দরবনে হিংস্র জীবজন্তু রয়েছে, তাই ভ্রমণের সময় যতটা সম্ভব লাল রঙয়ের কাপড় বা অন্যান্য জিনিস ব্যাবহারে বিরত থাকুন।
- ন্যাশনাল আইডি কার্ডের (NID) এক বা একাধিক কপি সাথে রাখবেন।
- সুন্দরবনের কিছু কিছু জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ঠিক মত পাওয়া যায় না। তাই সাথে যে সীমের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় সেটি রাখুন (রবি, টেলিটক)।
- ভ্রমণ প্যাকেজ যেহেতু ৩ দিন ২ রাতের তাই আসার সময় প্রয়োজনীয় জামা-কাপড় এবং আপনার অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন, ব্রাশ, টুটপেস্ট, লোশন, তোয়ালে, মোবাইল চার্জার ইত্যাদি নিয়ে আসবেন।
- গোসল করা এবং পানিতে নামার জন্য অতিরিক্ত কাপড় নিয়ে আসবেন।
- বর্ষা হোক কিংবা শীত সাথে অবশ্যই ছাতা, মাথার ক্যাপ নিয়ে নিবেন। আর বর্ষার সময় রেইনকোট নিতে ভুলবেন না।
- মোবাইল, ক্যামেরা, মানিব্যাগ, ব্যাগ ইত্যাদির জন্য অতিরিক্ত পলিথিন নিয়ে নিবেন। যদি বৃষ্টি হয় তাহলে যেন পানির হাত থেকে এগুলো রক্ষা করতে পারেন।
- জাহাজ/শিপ থেকে নেমে ভ্রমণের সময় খুব প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া সাথে কিছু নিবেন না। অতিরিক্ত জামাকাপড় বা অন্যান্য জিনিস বহন করে আপনার ভ্রমণের আনন্দকে নষ্ট করবেন না। মনে রাখবেন, হাটার পথ দীর্ঘ হতে পারে।
- সুন্দরবনে হিংস্র প্রানি রয়েছে তাই অতি উৎসাহী হয়ে বনের ভিতরে প্রবেশ করবেন না।
- কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নদীতে নেমে পড়বেন না। কারণ, নদীতে কুমির থাকতে পারে।
- অপরিচিত কারো দেওয়া কিছু খাবেন না।
- পানিতে মলত্যাগ করবেন না।
- ময়লা আবর্জনা দিয়ে পরিবেশ নোংরা করবেন না।
- পানিতে নামার সময় অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করুন।
- নদীর গভীরে গিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করবেন না।
- কারও অনুমতি ছাড়া ছবি তুলবেন না বা ভিডিও ধারণ করবেন না।
- বাচ্চাদের দিকে খেয়াল রাখুন।
- জোরে জোরে কথা বলা বা শব্দ করা থেকে বিরত থাকুন। এগুলো অভদ্র মানুষের কাজ।
- সর্বদা কর্তৃপক্ষ/ভ্রমণ গাইড এর পরামর্শ মেনে চলুন।
ভ্রমণে যেতে বিমানের ✈️ টিকিট লাগবে? কম খরচে বিমানের টিকেট কাটুন!
সুন্দরবন ম্যাপ
যোগাযোগ
বুকিং এবং ভ্রমণ প্যাকেজ সম্পর্কিত যে কোন তথ্যের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
কল করুন
০১৬১০-৫১৫৮৯৮ নাম্বারে কল দিন। সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত আপনার সেবায় রয়েছি।
ইমেইল করুন
info@kuhudak.com এ আমাদের ইমেল পাঠাতে পারেন এবং আপনি ১ থেকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে উত্তর পাবেন।
ম্যাসেজ করুন
আমাদের ভ্রমণ বিশেষজ্ঞ দল সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত আপনার সেবায় রয়েছে।
সচরাচর জিজ্ঞাস্য
সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজের খরচ কত?
সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজের খরচ নির্ভর করবে কত জন এর গ্রুপ, কোন কোন জায়গা ঘুরবেন, কতদিন থাকবেন তার উপর। তবে, জাহাজ/ শিপে সমুদ্র ভ্রমণ (৩ দিন ২ রাত) মাত্র ৭,৫০০ টাকা থেকে শুরু।
কলকাতা থেকে সুন্দরবন ভ্রমণে কিভাবে যাবো?
কলকাতা শিয়ালদা থেকে ট্রেনে করে ক্যানিং স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকেই ট্যুর অপারেটররা আপনাকে অটোয় চাপিয়ে সোনাখালি নিয়ে যাবেন। সোনাখালি থেকে লঞ্চ বা ভুটভুটিতে চেপে শুরু হবে আপনার সুন্দরবন যাত্রা। সড়ক পথে এলে কলকাতা থেকে সরাসরি সোনাখালি কিম্বা গদখালি চলে আসতে পারেন, সেখান থেকে লঞ্চে করে সুন্দরবন।
ট্যুর প্যাকেজে কোথায় কোথায় ঘুরব?
সুন্দরবন এর হরিণ, কুমির, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, বানর ইত্যাদি এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের ঐতিহ্যগত সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড। এছাড়া আশেপাশের দর্শনীয় স্থান গুলো দেখার সুযোগতো রয়েছেই!
- সুন্দরবন
- আন্দারমানিক
- করমজল পর্যটন কেন্দ্র
- কচিখালী খাল
- কটকা সমুদ্র সৈকত
- জামতলা সী-বিচ
- হাড়বাড়িয়া ইকো-পার্ক
- কচিখালী অফিস পার্ক
- কটকা ওয়াচ টাওয়ার
- টাইগার পয়েন্ট
- ডিমের চর
- কটকা অফিসপার
- টাইগার টিলা
- কচিখালী অভায়ারন্য
নোট: এখানে বলা বাহুল্য যে, আরও চমৎকার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে পাবেন।
সুন্দরবন ভ্রমণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন?
আমাদের সুন্দরবন ভ্রমণ প্যাকেজে আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বনবিভাগ থেকে থাকবে সার্বক্ষনিক আর্মসসহ দুই জন নিরাপত্তা কর্মী। আবহাওয়া এবং অন্য যে কোন প্রয়োজনে VSF এর মাধ্যমে ফরেস্ট, কোষ্ট গার্ড এবং নৌ-বাহিনীর সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন।
তাই আপনার ভ্রমণ আমাদের সাথে নিরাপদ। আজই ভ্রমণ করুন। আপনার ভ্রমণ হোক নিরাপদ এবং আনন্দময়।
ভ্রমণ প্যাকেজ বুকিং দিব কিভাবে?
সুন্দরবন ভ্রমণ প্যাকেজে বুকিং এবং ভ্রমণ প্যাকেজ সম্পর্কিত যে কোন তথ্যের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
যোগাযোগ ঠিকানা
মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ: +88 01610-515898
ইমেইল: info@kuhudak.com
ওয়েবসাইট: www.kuhudak.com
এছাড়া, ফেসবুক মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করতে পারেন।
ঢাকা থেকে সুন্দরবন যেতে কত সময় লাগে?
ঢাকা থেকে ভোর ৬টা হতে রাত ১১টা পর্যন্ত গাড়ি খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে সড়ক পথে খুলনা পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৭ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন কোম্পানির লঞ্চ নিয়মিত যাতায়াত করছে খুলনার উদ্দেশ্যে। খুলনার নন এসি বাসের ভাড়া ৫৫০, এসি ১৪০০ টাকা। ভাড়া কম বেশি হতে পারে।
কাস্টমাইজ ট্যুর প্যাকেজ অফার করেন কি?
হ্যাঁ, আমরা কাস্টমাইজ ট্যুর প্যাকেজ অফার করে থাকি। খরচ নির্ভর করবে কত জন এর গ্রুপ, কোন কোন জায়গা ঘুরবেন, কতদিন থাকবেন তার উপর। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন।
খুলনা থেকে সুন্দরবন যাওয়ার উপায় কি?
ভ্রমণে সুন্দরবন যেতে চাইলে খুলনা (Khulna) হয়ে যাওয়া যায় অথবা আপনি মোংলা (Mongla) থেকে যেতে পারেন। এই দুইটি পথই সবচেয়ে জনপ্রিয়। আর খুলনা থেকে ছেড়ে যাওয়া শীপ মোংলা হয়েই সুন্দরবনে প্রবেশ করে। এছাড়া, ঢাকা থেকে খুলনা বাসে বা ট্রেনে সরাসরি যেতে পারবেন।
সুন্দরবন ভ্রমণ প্যাকেজ সম্পর্কে?
বাংলাদেশের খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা জেলা ও বাগেরহাট জেলা এবং ভারতের কিছু অংশ যেমন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দুই জেলা উত্তর চব্বিশ পরগনা ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জুড়ে ১,৩৯,৫০০ হেক্টর বা, (৩,৪৫,০০০ একর) আয়তনের বিশাল এই প্রশস্ত বনভূমি বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম এক বিস্ময়কর বনভূমি।
সুন্দরবনের এই ভ্রমণ প্যাকেজটি ৩ দিন ২ রাতের। ৭,৫০০ টাকায় আপনি সুন্দরবন, আন্ধারমানিক, করমজল, কচি খালি, কটকা, হারবারিয়া ইত্যাদি দেখতে পারবেন। সাথে আশেপাশের দর্শনীয় স্থান গুলো দেখার সুযোগ তো রয়েছেই!