ঘুরতে গেলে সঙ্গে রাখুন এ ১০টি অ্যাপ

ঘুরতে গেলে সঙ্গে রাখুন এ ১০টি অ্যাপ। পৃথিবীটা ঘুরে দেখার স্বপ্ন আজ আর শুধু চোখের ভেতরে আটকে নেই। স্মার্টফোনের স্ক্রিনে, ন্যাভিগেশনে, বুকিং অ্যাপে আর অনলাইন গাইডেই মুঠোর মধ্যে এনে দিয়েছে দিগন্তজোড়া সম্ভাবনা। আপনি হয়তো রওনা হয়েছেন পাহাড়ে, সমুদ্রপাড়ে কিংবা পুরনো কোনো শহরে, সঙ্গী যদি থাকে সঠিক কিছু অ্যাপ, তাহলে অনেক সমস্যাই আগেভাগে সামলে নিতে পারবেন।

একটা সময় ছিল, যখন ভ্রমণের মানে ছিল বড়সড় একটি ব্যাগ, হ্যান্ড ডায়েরি, মানচিত্র, গাইডবুক আর একটা ঠিকানার কাগজ হাতে রওনা হওয়া। অজানাকে জানার রোমাঞ্চ ছিল ঠিকই, তবে তার সঙ্গে যুক্ত ছিল অগোছালো পরিকল্পনা, ভুল রুট, ভুল জায়গায় পৌঁছে যাওয়ার ভয় কিংবা ভাষা বুঝতে না পারার বিড়ম্বনা।

- বিজ্ঞাপন -

কিন্তু প্রযুক্তি বদলেছে সবকিছু। এখনকার পর্যটকের পকেটে থাকে একটা স্মার্টফোন, আর তাতেই গুছিয়ে নেওয়া যায় গোটা পৃথিবীকে! আপনি যে দেশেই যান না কেন, যে পরিবেশেই পড়েন না কেন, সঠিক কিছু অ্যাপ ইনস্টল থাকলে আপনার যাত্রা হবে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য, সাবলীল ও স্বস্তিদায়ক। চলুন জেনে নিই এমন ১০টি প্রয়োজনীয় অ্যাপ (Travel Apps), যা প্রতিটি ভ্রমণপিপাসুর ফোনে থাকা উচিত।

আরও: স্বপ্নে আঁকা শহর কেপ টাউন

১. Google Maps – পথের বন্ধু

সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও বহুল ব্যবহৃত এই অ্যাপটি যে শুধু গন্তব্য দেখায়, তা নয়। এটি আপনার পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনারই অংশ হতে পারে।

  • আপনি চাইলে নির্দিষ্ট এলাকার ম্যাপ অফলাইনে ডাউনলোড করে রাখতে পারেন। যেখানে নেটওয়ার্ক থাকে না, সেখানেও ম্যাপ কাজ করবে।
  • কাছাকাছি হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, ATM, পাবলিক টয়লেট; সবকিছু খুঁজে পাওয়া যায় এক ট্যাপে।
  • এমনকি গাড়ির পার্কিং জায়গাও সেভ করে রাখা যায় যেন ফিরতে ভুল না হয়।

টিপস: গুগল ম্যাপে নিজের লোকেশন টাইমলাইনে ট্রিপ ট্র্যাক রাখতে পারেন।

২. TripIt – ভ্রমণ পরিকল্পনা গুছিয়ে রাখে আপনাআপনি

আপনি হয়তো বিমানের টিকিট বুক করেছেন একটি সাইট থেকে, হোটেল অন্য অ্যাপে, আর গাড়ির রিজার্ভেশন আরেকখানে, সব মিলিয়ে এক বিশৃঙ্খলা! TripIt সেই বিশৃঙ্খলাকে গুছিয়ে দেয়।

  • আপনার ইমেইল ইনবক্সে থাকা বুকিং কনফার্মেশনগুলো থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ভ্রমণ টাইমলাইন তৈরি করে।
  • ফ্লাইটের সময়, হোটেল চেক-ইন, গাড়ি ভাড়া সব ইনফরমেশন একসাথে রাখে।

টিপস: আপনার ভ্রমণ প্ল্যান বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করা যায় একটি ক্লিকেই।

৩. Skyscanner – সস্তা ফ্লাইট খোঁজার দারুণ প্লাটফর্ম

একই ফ্লাইটের ভিন্ন ভিন্ন এয়ারলাইন বা ট্রাভেল এজেন্সিতে দাম ভিন্ন হতে পারে। Skyscanner সেই তুলনাটি আপনাকে দেখায়।

  • আপনি যদি ফ্লেক্সিবল হন, তাহলে “Cheapest Month” অপশনে একেবারে সস্তায় টিকিট পেতে পারেন।
  • শুধু ফ্লাইটই নয়, হোটেল আর রেন্টাল কার বুকিংও করা যায়।

টিপস: ট্রিপের ৪–৬ সপ্তাহ আগে খোঁজা শুরু করলে সবচেয়ে ভালো রেট পাওয়া যায়।

৪. Google Translate – ভাষা আর বাধা নয়

দেশ ভেদে ভাষা বদলায়, আর সেটা ভ্রমণকে জটিল করে তোলে। গুগল ট্রান্সলেট সেই বাধা সরিয়ে দেয় সহজেই।

  • শুধু টাইপ নয়, আপনি কথা বললে সেটাকে অনুবাদ করে দেয় রিয়েল টাইমে।
  • এমনকি আপনি যদি সাইনবোর্ড বা মেন্যু ক্যামেরায় স্ক্যান করেন, সেটাও অনুবাদ করে দেবে।
  • অফলাইনে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ভাষার প্যাকও ডাউনলোড করে রাখা যায়।

উদাহরণ: চীনের রেস্টুরেন্টে গিয়ে অর্ডার করতে হিমশিম খাচ্ছেন? গুগল ট্রান্সলেট আপনার সহযোগী হিসেবে কাজে দিবে।

৫. Rome2Rio – এক গন্তব্য থেকে অন্য গন্তব্যে যাওয়ার সব উপায় এক জায়গায়

আপনি যদি এক শহর থেকে আরেক শহরে যেতে চান, Rome2Rio বলে দেবে কোন বাস যাবে, ট্রেন আছে কিনা, উবারের খরচ কত, এমনকি ফ্লাইট অপশনও।

  • সব রুট, সময়, খরচ এক ক্লিকে জানিয়ে দেয়।
  • মানচিত্রসহ রুট প্ল্যানও দেখায়।

টিপস: বিশেষ করে ইউরোপ-ভ্রমণে এটি খুবই উপকারী, যেখানে একাধিক শহর পাড়ি দিতে হয়।

আরও: ৫টি স্মার্ট গ্যাজেট যা বদলে দেবে আপনার ট্রাভেল এক্সপেরিয়েন্স

৬. Airbnb – হোটেল নয়, হোম-স্টে অভিজ্ঞতা নিন

আপনি যদি চান একটু ভিন্নধর্মী থাকার জায়গা, লোকাল ঘর, ভিন্টেজ কটেজ, বা পাহাড়ের কেবিন, Airbnb হবে আপনার জন্য পারফেক্ট।

  • সাশ্রয়ী দামে পরিবারের সঙ্গে থাকার মতো ব্যবস্থা।
  • হোস্টরা অনেক সময় লোকাল টিপসও দিয়ে থাকেন, যা ট্র্যাডিশনাল গাইডে পাওয়া যায় না।

উদাহরণ: থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই-তে একটা বাঁশের ঘরে Airbnb বুকিং করতে পারেন, যা দারুণ অভিজ্ঞতা দিবে।

৭. PackPoint – ভ্রমণ ব্যাগ গোছাতে ভুলবেন না কিছুই

ভ্রমণের আগে মাথায় থাকে হাজারো বিষয়, জিনিসপত্র গোছানো তার মাঝে অন্যতম চাপের কাজ।

  • PackPoint আপনার গন্তব্য, আবহাওয়া ও কার্যকলাপ অনুযায়ী একটি পার্সোনালাইজড চেকলিস্ট তৈরি করে।
  • আপনি যদি বলেন আপনি সুইমিং করবেন, বা হাইকিং করবেন, তা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা দেখাবে।

টিপস: চেকলিস্টটি অনলাইনে শেয়ার করা যায় ট্র্যাভেল পার্টনারদের সঙ্গে।

৮. XE Currency – রেট মিলিয়ে, হিসেব করে খরচ করুন

বিদেশে গিয়ে যদি আপনি না জানেন ১০০ ইউরো মানে কত টাকা, তাহলে খরচে গোলমাল হতে পারে।

- বিজ্ঞাপন -
  • XE Currency দিয়ে আপনি রিয়েল-টাইম এক্সচেঞ্জ রেট দেখতে পারেন।
  • একাধিক মুদ্রা যোগ করে রাখতে পারবেন, অফলাইনেও রেট হিসেব করে দেখায়।

উদাহরণ: ইউরোপে ইউরো, ইউকে-তে পাউন্ড, তুরস্কে লিরা সব হিসেব রাখতে পারবেন এক অ্যাপে।

৯. LoungeBuddy – এয়ারপোর্টে একটু আরাম চাই?

লম্বা layover বা delayed flight হলে, একটু আরাম দরকার হয়।

  • LoungeBuddy বলে দেয় আপনি কোন লাউঞ্জে ঢুকতে পারবেন, খরচ কত, সুযোগ-সুবিধা কী।
  • আপনি চাইলে অ্যাপ থেকেই এক্সেস বুক করে নিতে পারেন।

১০. Flush – পাবলিক টয়লেট খুঁজে পেতে এই অ্যাপই যথেষ্ট

একটা বাস্তব সমস্যা, বিশেষ করে অচেনা শহরে পাবলিক টয়লেট খুঁজে পাওয়া।

  • Flush অ্যাপ আপনাকে নিকটবর্তী টয়লেট লোকেশন দেখায়, অফলাইনেও কাজ করে।
  • ইউজার রেটিংসহ বলে দেয় কোনটা পরিষ্কার, কোনটা ফ্রি!

অতিরিক্ত কয়েকটি উপকারী অ্যাপ (বোনাস)

  • Booking.com / Agoda – হোটেল বুকিংয়ের জন্য নির্ভরযোগ্য।
  • Trail Wallet – ট্রিপে খরচ ট্র্যাক করার অ্যাপ।
  • Polarsteps – আপনার যাত্রাপথ রেকর্ড করতে চাইলে দারুণ অ্যাপ।

ভ্রমণ যতই রোমাঞ্চকর হোক, প্রস্তুতি ছাড়া তার স্বাদ অপূর্ণ থাকেই যায়। আজকের দিনে সফটওয়্যার আর প্রযুক্তি শুধু সময় বাঁচায় না, তা আপনাকে স্মার্ট ভ্রমণকারীতে পরিণত করে। তাই নতুন জায়গায় পা রাখার আগে শুধু জুতো নয়, মোবাইলে ইনস্টল করে রাখুন এই অ্যাপগুলো। এগুলোই হতে পারে আপনার পরবর্তী যাত্রার সফল সঙ্গী।


ফেসবুক: Kuhudak

শেয়ার করুন
গোআরিফ লগো আইকনগোআরিফ লগো আইকন

আপনার আশেপাশের দর্শনীয় স্থানের তথ্য দিন

আপনার আশেপাশের দর্শনীয় স্থানের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন।