বিশ্ব পর্যটন দিবস (World Tourism Day) প্রতি বছর ২৭ সেপ্টেম্বর পালিত হয় পর্যটনের গুরুত্ব, সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য। এটি একটি বৈশ্বিক আয়োজন, যা জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা (UNWTO)-এর উদ্যোগে প্রথম শুরু হয়।
ইতিহাস
১৯৭০ সালে বিশ্ব পর্যটন সংস্থার সংবিধি পাশ হয়। তার দশ বছর পর অর্থাৎ ১৯৮০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর এ সংবিধি কার্যকর করা হয়। সংবিধি কার্যকর করার দিন থেকেই বিশ্ব পর্যটন সংস্থার সদস্য রাষ্ট্র গুলো আনুষ্ঠানিক ভাবে এই দিবসটি পালন করে আসছে। এছাড়া, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তির পর বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণের ফলশ্রুতিতে বিশ্বব্যাপী পর্যটন ব্যবসার প্রসার ঘটে।
এ অবস্থায় পর্যটনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিবর্গ ও ভোক্তা শ্রেণীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠে আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক সংস্থা বা আইইউওটিও। এরপর ১৯৭৮ সালে “বিশ্ব পর্যটন সংস্থা” নামে চিহ্নিত করে জাতিসংঘের অধীনস্থ বিশ্ব পর্যটন সংস্থার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ১৯৮০ সাল থেকে চূড়ান্ত ভাবে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর বেশ জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালন করা হয়ে থাকে। গত বছর ২০১৮ সালে বাংলাদেশে দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল বিষয় ছিল “পর্যটন ও ডিজিটাল রূপান্তর” ।
আরও: পর্যটন কর্পোরেশনের কাজ কি
বিশ্ব পর্যটন দিবসের উদ্দেশ্য
বিশ্ব পর্যটন দিবস পালনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো:
- পর্যটনের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরা।
- পর্যটনের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি এবং জাতির মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধি করা।
- টেকসই পর্যটন উন্নয়নের ধারণা প্রচার করা।
বিশ্ব পর্যটন দিবসের গুরুত্ব
১. অর্থনৈতিক অবদান: পর্যটন শিল্প বিশ্বজুড়ে অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক খাত। এটি অনেক দেশের GDP-তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক।
২. সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ: পর্যটন স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সাহায্য করে। এটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নত করতেও ভূমিকা রাখে।
৩. পরিবেশ সংরক্ষণ: টেকসই পর্যটন পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কেও সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে পর্যটনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিশ্চিত করে।
আরও: ভ্রমণ কি
কিভাবে উদযাপন করা হয়
বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজন করা হয়, যেমন:
- পর্যটন মেলা এবং প্রদর্শনী।
- সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সেমিনার এবং কর্মশালা।
- স্থানীয় পর্যটন স্থানগুলোর পরিচিতি এবং উন্নয়ন কার্যক্রম।
- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পর্যটনের প্রচারণা।
টেকসই পর্যটনে আপনার ভূমিকা
পর্যটক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো:
- পরিবেশবান্ধব এবং সচেতনভাবে ভ্রমণ করা।
- স্থানীয় সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে সম্মান করা।
- টেকসই পর্যটনের গুরুত্ব বুঝে স্থানীয় কমিউনিটির উন্নয়নে সহায়তা করা।
বিশ্ব পর্যটন দিবস এমন একটি দিন, যা শুধু পর্যটনকে উদযাপনই নয়, এটি আমাদের কাছে একটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পর্যটন শুধুমাত্র ভ্রমণ নয়, বরং এটি আমাদের পৃথিবী, সংস্কৃতি এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার এক মাধ্যম।
ইউটিউব: GoArif
